
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে জড়িয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।
শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে আরিফুর রহমান তাঁর দাপ্তরিক ফেসবুক পেজ থেকে পরপর দুটি পোস্ট দেন। একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে।’ অন্যটিতে লেখা ছিল, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।’ পোস্ট দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন ছিল। রাতে আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ তাঁর বাসায় জন্মদিনের কেক কাটেন। এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখে অনেকে তাঁর বাসায় যান, পুলিশও আসে।
ইউএনও আরও জানান, আরিফুর রহমান তখন অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং পরিচিত ব্যক্তিদেরও চিনতে পারছিলেন না। এর আগে তিনি বাসায় থাকা এক আনসার সদস্যকে মারধর এবং টেবিলের কাচ ভাঙচুর করেন বলে জানান ইউএনও। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকও সেখানে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল বাতেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি এসে তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দেন। পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নেওয়া হয় তাঁকে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আরিফুর রহমান অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁর স্ত্রী তাঁকে সিলেটে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরিফুর রহমান শান্ত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
আরিফুর রহমানকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, আরিফুর রহমানের আগে থেকেই মানসিক সমস্যা ছিল বলে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রামের বাসায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৪ শিশুর মৃত্যু হলো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মারা যাওয়া শিশুটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার বয়স ৯ মাস। হাম উপসর্গের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৫৮ শিশু।
গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ হাজার ৫০১ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৩০০ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১৭ শিশু।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে শিশুদের মধ্যে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক শিশু টিকা নেয়নি অথবা টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মেয়ে রানু আক্তারের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বড় বাড়ির হোসেন মিয়ার ঘরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী এবং অভিযুক্ত রানু আক্তার তাঁদের মেয়ে।
খবর পেয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে রানু আক্তার অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাঁকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং মানসিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে তাঁর মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন ও দরজা ভেতর থেকে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, রানু আক্তার আগের থেকে মানসিক অসুস্থ ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বামী তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। চিকিৎসার জন্য তাঁকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা ছিল।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানালেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজধানীর নিউমার্কেটে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি এখন আরামদায়ক চলাচলের বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রায় ১০ কোটি টাকা — ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকার বেশি — ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) বন্ধ থাকায় বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্রিজের হাঁটার জায়গা ও প্রবেশপথ দখল করে হকাররা দোকান বসানোয় সংকুচিত হয়ে গেছে পথচারীদের চলাচলের স্থান।
উদ্বোধনের আট মাস না পেরোতেই গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এর রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে নিউমার্কেটের ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ রয়েছে এর চলন্ত সিঁড়ি। ফলে পথচারীদের সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করেই ওঠানামা করতে হচ্ছে। ব্রিজের হাঁটার জায়গা ও প্রবেশপথে হকারদের দোকান বসায় সংকুচিত হয়ে গেছে চলাচলের পথ।
নিউমার্কেটের সামনে মিরপুর রোডে ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের সংযোগস্থলে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল চলন্ত সিঁড়ি। ব্যস্ত সড়ক নিরাপদে পারাপারের পাশাপাশি সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহারে যেসব পথচারীর সমস্যা হয়, তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যস্ত মিরপুর রোডে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।
রাজধানীর উত্তরা থেকে কেনাকাটা করতে নিউমার্কেট এলাকায় আসা বেসরকারি চাকরিজীবী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ফুটওভার ব্রিজটি মানুষের নিরাপদ পারাপারের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু এস্কেলেটর বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য বেশ কষ্টকর। অনেক সময় সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে মাঝপথে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনার সুবিধা যদি মানুষ না পায়, তাহলে সেই অর্থ ব্যয়ের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী হোসনে আরা বেগম বলেন, শিশুদের নিয়ে রাস্তা পার হতে গেলে সব সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটর চালু থাকলে শিশুদের নিয়ে ওঠানামা করা অনেক সহজ হতো, কিন্তু সেটি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং হাতে ব্যাগ থাকলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এস্কেলেটর চালু করা এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা বলে তিনি জানান।
নিউ সুপার মার্কেট থেকে গাউছিয়া মার্কেটে যাওয়ার জন্য ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে আসা প্রবীণ নাগরিক মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, তাঁর বয়স হয়েছে, আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। ব্রিজের সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু; এক ধাপ করে উঠতে গেলেই হাঁপিয়ে উঠতে হয়, মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। নামার সময়ও ভয় লাগে, কারণ পা পিছলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।
শিশুসন্তানকে নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় আসা অভিভাবক ফারজানা ইসলাম লাইজু বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তা পার হতে হলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা ছাড়া নিরাপদ কোনো উপায় থাকে না, কিন্তু সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু হওয়ায় ছোট শিশুদের নিয়ে ওঠানামা করা বেশ কঠিন। এস্কেলেটর চালু থাকলে শিশুদের নিয়ে সহজেই পারাপার করা যেত বলে তিনি জানান।
ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা হকারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উচ্ছেদের পর আবার বসার সুযোগ করে দেন বলে অনেকের অভিযোগ। ব্রিজের হাঁটার জায়গায় দোকান বসানোর কারণে শিশুদের হাত ধরে হাঁটা, প্রবীণদের নিরাপদে ওঠানামা করা কিংবা দুই দিক থেকে আসা পথচারীদের একসঙ্গে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, নিউমার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথচারীদের সুবিধার জন্য নির্মিত অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকা শহরকে পথচারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটর দ্রুত সচল করার পাশাপাশি এর ওপর ও আশপাশে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং রাজধানীর কোথায় কোথায় নতুন ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন তা চিহ্নিত করতে একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন জরুরি।
হিমালয়কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ে ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীতের অনুভূতি। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৭ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও আজ তা নেমে এসেছে ১৬ ডিগ্রির ঘরে। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ।
এর আগে রবিবার একই সময়ে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ঠান্ডার অনুভূতি বাড়তে থাকে। ভোরে কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের আবহ আরও স্পষ্ট করে তুলছে। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে শীতের অনুভূতি কমে যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। রাত ও ভোরে কুয়াশার প্রবণতাও বাড়ছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় দিনে গরম এবং রাতে ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
ব্রিটেনের বৃহত্তম নিয়োগদাতারা সরকারকে বলেছেন, বয়স্ক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি অর্থ দিতে বাধ্য করা হলে তরুণদের চাকরির সংকট মোকাবিলার লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বোঝাপড়া অনুযায়ী, মন্ত্রীরা লেবার সরকারের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ তহবিল প্রকল্পে সংস্কার এনে ইংল্যান্ডে ২৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো কর্মীর প্রশিক্ষণের ব্যয় ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো এর বদলে তরুণদের প্রশিক্ষণে উৎসাহিত হয়। বুধবারের বাজেটের আগে তৈরি এই প্রস্তাবটি গত সপ্তাহে প্রথম প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে, এত তরুণ কেন বেকার তা নিয়ে অ্যালান মিলবার্নের পর্যালোচনার জবাবে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হবে এটি।
চ্যান্সেলর জন হিলি তরুণদের সুযোগ বাড়াতে পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে দেশজুড়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই (নিট) এমন ১০ লাখ ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণকে সহায়তা করা যায়। তবে ব্যবসায়ী নেতারা বয়স্ক কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও ব্যয়বহুল করার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
উৎপাদন খাতের লবি গ্রুপ মেক ইউকের নীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক রক্ষণশীল দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট হালফন বলেন, ‘এতে শুধু সুযোগগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরে যাবে, নতুন সুযোগ তৈরি হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে ফিরিয়ে আনা একটি নৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা, এ বিষয়ে আমরা একমত। কিন্তু নিয়োগদাতাদের জন্য বয়স্ক কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও ব্যয়বহুল করা এর উত্তর নয়।’
হালফন হিলিকে ইংল্যান্ডের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাজেট কাটছাঁট ও পুনর্বণ্টনের ‘চক্র ভাঙার’ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
অ্যান্ডি বার্নহাম তরুণদের চাকরিকে তাঁর কর্মসূচির কেন্দ্রে রেখেছেন, যার মধ্যে কারিগরি শিক্ষা পুনর্গঠনের ব্যাপক পরিবর্তন এবং গত এক দশকে তরুণদের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ শুরুর সংখ্যায় ৪০ শতাংশ পতন উল্টে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ভর্তির অর্ধেকের বেশি যেখানে ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের, মন্ত্রীরা স্পষ্ট করেছেন তাঁরা ব্যবস্থাটিকে আরও বেশি তরুণকে সহায়তার দিকে পুনঃভারসাম্য করতে চান।
এখনো চূড়ান্ত না হওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা ২৫ বছরের কম বয়সী একজন অ্যাপ্রেন্টিসের পুরো ব্যয় তাঁদের গ্রোথ অ্যান্ড স্কিলস লেভিতে দেওয়া অর্থ থেকে মেটাতে পারবেন — এই লেভি হলো জাতীয় অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ব্যবস্থায় অর্থায়নের জন্য বছরে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের কর। তবে বয়স্ক কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে তাঁদের একটি ‘সহ-বিনিয়োগ নিয়মের’ মুখে পড়তে হবে, যেখানে লেভি তহবিল ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বহন করবে এবং বাকিটা আলাদাভাবে মেটাতে হবে।
সিবিআই লবি গ্রুপের প্রধান নীতি ও প্রচারণা কর্মকর্তা জন ফস্টার বলেন, ‘আমরা দক্ষতাকে শূন্য-সমষ্টির খেলায় পরিণত করতে পারি না। নিট তরুণদের কাজে সহায়তায় মনোযোগ দেওয়া ঠিক হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রশিক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে প্রবেশ-স্তরের সুযোগ খোলা এবং কর্মজীবনের মাঝপথে মানুষকে দক্ষতা খাপ খাওয়ানো ও হালনাগাদে সহায়তা করার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিচ্ছে।’
ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্সের নীতি ও অন্তর্দৃষ্টি পরিচালক কেট শুস্মিথ বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার চাপে থাকায় নিয়োগদাতাদের একজন মানুষের কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতায় বিনিয়োগের জন্য আরও নমনীয়তা ও সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, তরুণদের অ্যাপ্রেন্টিসশিপে উৎসাহিত করার সেরা উপায় হলো ব্যবসা করার বৃহত্তর ব্যয় কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তরুণ নেওয়া সহজ ও সাশ্রয়ী করা, প্রশিক্ষণে নতুন বাধা তৈরি করা নয়।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘তরুণদের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ শুরুর সংখ্যায় ৪০ শতাংশ পতন উল্টে দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং তাঁদের সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেওয়া আমাদের জন্য সঠিক।’ তিনি বলেন, এ কারণেই সরকার ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের সমর্থনে ব্যবস্থাটি সংস্কার করেছে, যাতে তরুণদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ দেওয়া যায় এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী অ্যাপ্রেন্টিস নেওয়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ২ হাজার পাউন্ড নিয়োগ প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা যায়। মুখপাত্র আরও বলেন, মিলবার্ন পর্যালোচনা শরতে আসার কথা এবং সরকার এর ফলাফল আগাম অনুমান করবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশনের প্রধান হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে কিংবা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে জ্বালানির বাজারে এই উল্লম্ফন ঘটবে।
রবিবার ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
আহমাদি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার অতিক্রম করেছে এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত মজুতও উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানি সংকট প্রলম্বিত হলে ওয়াশিংটন ছাড়াও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে পড়বে।
তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যস্ফীতি কেবল নির্দিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন ও শিল্পোৎপাদনসহ সার্বিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়বে এবং আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হবে। নিজ দেশের ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন সরকারকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও তিনি জানান।
জ্বালানির বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এই সংসদীয় নেতা দাবি করেন, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা এবং নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কারণেই তেহরান এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম। ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন, তেল সরবরাহে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেও তা যুক্তরাষ্ট্র ও গোটা ইউরোপীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।
মানিকগঞ্জের নিম্ন পদ্মায় গত চার বছরে ইলিশের উৎপাদন ৪৬ শতাংশের বেশি কমেছে, আর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ২২ দিনের প্রজননকালীন সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জেলার পদ্মা ও যমুনা নদীতে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলছে।
জেলার হরিরামপুর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার অভয়াশ্রম এলাকায় ক্ষতিকর কারেন্ট জাল ফেলে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
দৌলতপুর থেকে শিবালয়ের নয়াকান্দি পর্যন্ত নদীপারের আলোকদিয়া, চর শিবালয়, হেমগঞ্জ, বাঘুটিয়া, জাফরগঞ্জ, ডালা মালুচি ও গোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভোরের আলো ফোটার আগে এবং রাতে প্রকাশ্যে ইলিশ বেচাকেনা চলছে। কম দামে কেনা এই মাছ অটোরিকশায় করে শিবালয়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
শিবালয়ের কলাবাগান এলাকার মাছ বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, মৌসুমি জেলেরা ছোট ইলিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। অন্য এলাকায় এনে ১ কেজি ওজনের মাছ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ‘ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ’-এর তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের নিম্ন পদ্মায় ইলিশ উৎপাদন চার বছরে ৪৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৩৭ টন কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৫৯ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ১১৭ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ১২২ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৯০ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬২২ টনে।
পরিবেশবাদী সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি, পলি জমে নাব্য হ্রাস, পানির প্রবাহ ও লবণাক্ততার পরিবর্তন, বর্জ্য দূষণ, যান্ত্রিক নৌকার উচ্চ শব্দ এবং জাটকা ও মা ইলিশ নিধনে কারেন্ট জাল ও ‘চায়না দুয়ারী’ ফাঁদের ব্যবহার এই সংকটের পেছনে দায়ী। মাছ না পেয়ে জেলার অনেক নিবন্ধিত জেলে নৌকা ও জাল বিক্রি করে রিকশা চালানো বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, পর্যাপ্ত সহায়তা ও স্পিডবোটের অভাব এবং সমন্বিত ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে তাঁদের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশাল নদী এলাকা একবারে ঘিরে ফেলা সম্ভব না হওয়ায় প্রশাসন এক জায়গায় অভিযান চালালে অসাধু জেলেরা অন্য জায়গায় মাছ ধরা শুরু করে।
অভিযোগ উঠেছে, পেশাদার জেলেরা এই সময়ে নদীতে না নেমে কষ্টে দিন কাটালেও চরাঞ্চলের অন্তত তিন হাজার মৌসুমি জেলে অবৈধভাবে মাছ ধরায় যুক্ত রয়েছেন।
গোয়ালিয়ার মৌসুমি জেলে ফারুক হোসেন, বারেক শেখ ও আমজাদ হোসেন জানান, তাঁরা নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর রাখেন; অভিযান শুরু হলে ফোনে খবর পেয়ে সরে যান এবং প্রশাসন চলে গেলে আবার নদীতে নামেন। যেদিন মাছ কম বিক্রি হয়, সেদিন নদীপারের বাড়িগুলোর ডিপ ফ্রিজ ভাড়া নিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে বিক্রি করা হয়। অভিযান এড়াতে আগে থেকেই অতিরিক্ত কারেন্ট জাল কিনে রাখেন তাঁরা।
নদীতে নামা জেলেরা আরও জানান, ১০০ জন জেলের মধ্যে মাত্র ১০ জনের মতো নিবন্ধিত ‘জেলে কার্ড’ থাকায় তাঁরা সরকারি সহায়তা পান না, এবং পেটের দায়েই বাধ্য হয়ে তাঁরা মাছ ধরতে নামেন।
শিবালয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত ৬৪টি অভিযানে ৩৫৪ কেজি ইলিশ এবং ৪৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি টাকা, এবং ৩৭ জন জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ আগাম সংসদ নির্বাচনে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন একটি আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন, যে আন্দোলন প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল।
রোববারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ভুচিচ ছাত্র তালিকার কাছে পরাজয় মেনে নেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) নেতা ভুচিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’ ভোটের একটি নমুনা অনুযায়ী তাঁর নির্বাচনী তালিকা সার্বিয়ার ২৫০ সদস্যের সংসদে ১০৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্র তালিকার আসন ১৩৫ থেকে ১৪০টি হতে পারে।
ছাত্র আন্দোলনটির উত্থান ঘটে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নোভি সাদ শহরে একটি ট্রেন স্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর।
তরুণদের নেতৃত্বে সেই বিক্ষোভ পরে বিস্তৃত সামাজিক অসন্তোষে রূপ নেয় এবং ছাত্র তালিকা নামে একটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়, যা দুর্নীতি মোকাবিলা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং নাগরিকদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেয়।
নির্বাচনী প্রচারে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন নোভি সাদের মেডিসিন অনুষদের অধ্যাপক ইলিজা স্রদানোভিচ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিকিৎসক ও শ্রমিকরাও ছিলেন, যাঁদের ভুচিচ ‘অবরোধকারী’ বলে অভিহিত করে সার্বিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন।
বেলগ্রেডে ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া ভুচিচ ১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। টমিস্লাভ নিকোলিচের সঙ্গে মিলে তিনি ২০০৮ সালে এসএনএস প্রতিষ্ঠা করেন, যা মূলধারার ইউরোপীয় রাজনীতির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে।
ভুচিচ ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন, তিন বছর পর প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০২২ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের চাপে তিনি সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ সাংবিধানিকভাবে সীমিত হলেও তিনি তাঁর দল ও রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন।
সার্বিয়ার সাংবাদিক সাফেতা বিসেভাচ আল জাজিরাকে বলেন, ভুচিচ অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও কমই পূরণ করেছেন, তবে এর মধ্যে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজনৈতিক বিজ্ঞানী দুস্কো রাদোসাভলিয়েভিচের মতে, ছাত্ররাই নাগরিকদের ন্যায্য ক্ষোভকে কণ্ঠ দিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে ভুচিচের সময়ে সার্বিয়ায় বেকারত্ব ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমেছে, নামমাত্র জিডিপি প্রায় তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে এবং বার্ষিক প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ২০১২ সালের প্রায় ৮০ কোটি ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৫২০ কোটি ইউরো হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় তথ্য ও রয়টার্সের বরাতে জানানো হয়। তবে মজুরি বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনমানের উন্নতি হয়নি বলে বিতর্ক রয়েছে।
চীনের রাজনৈতিক নেতা ও অভিজাতদের চার দিনের একটি বৈঠক সোমবার শুরু হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে শৃঙ্খলা আরও শক্ত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
পঞ্চম প্লেনাম নামে পরিচিত এই বৈঠক ঘিরে দেশটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত মেলে কি না, তা নিবিড়ভাবে লক্ষ করা হচ্ছে।
বন্ধ দরজার এই সমাবেশ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন প্রায় এক বছর পর প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দলের নেতা হিসেবে চতুর্থ পাঁচ বছর মেয়াদ নিশ্চিত করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব সংস্থাগুলোতে কর্মী পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৩০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
সি তাঁর ক্ষমতা সুসংহত করলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই প্লেনাম তাঁকে বেইজিংয়ের চাওয়া অনুযায়ী কর্মকর্তাদের কাজ সাজানোর আরেকটি সুযোগ দেবে। লন্ডনের টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, প্লেনামটি নতুন প্রজন্মের উঠে আসা কর্মকর্তারা যেন সুযোগ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত থাকেন, তা নিশ্চিত করার একটি সুযোগ।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্লেনামে কমিটি ‘পূর্ণ ও কঠোর দলীয় আত্মশাসন’ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি খসড়া নীতি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ক্যাডারদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, কার্যকর ও কম দুর্নীতিগ্রস্ত করা। বিশ্লেষকদের মতে, সি আরও তদারকি ও নিয়ম আরোপ করে ক্যাডারদের দক্ষতা ও আনুগত্য সর্বোচ্চ করতে চাইছেন।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল থমাসের মতে, সরকারি ব্যয় ও বড় প্রকল্পে আরও কঠোর নজরদারি, দুর্নীতি উদ্ঘাটনে প্রযুক্তির বেশি ব্যবহার এবং সির অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর পরিণতির দাবি উঠতে পারে।
সির ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের কারণে এবারের প্লেনামে উপস্থিতি ১৯৭৬ সালে সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর সবচেয়ে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির আটটি আসন খালি রয়েছে, আর আরও ১৫ জন সদস্য তদন্তের মুখে থাকায় তাঁদের বদলি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সির দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামরিক বাহিনীকেও লক্ষ্য করেছে, যেখানে দলের সর্বোচ্চ সশস্ত্র বাহিনী সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্লেনামে ওই কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ হতে পারে এবং সি সামরিক বাহিনীর ওপর দলের নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনও করতে পারেন।
আলোচনাটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি টানা মন্থর অভ্যন্তরীণ ব্যয় এবং গুরুত্বপূর্ণ আবাসন খাতের দীর্ঘ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও চীনের নেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে সোমবার সকালে একটি চারাগাছ রোপণ করে বাংলাদেশ পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।
এই কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজনে জানানো হয়।
উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সদর দপ্তর চত্বরে চারা রোপণের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পুলিশের এই অভিযানের সূচনা হয়।
কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট, আঞ্চলিক পুলিশ ব্যারাক, আবাসিক এলাকা এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের ফাঁকা জায়গায় পরিকল্পিতভাবে চারা রোপণ করা হবে।
রোপণের জন্য ফলদ, বনজ, ভেষজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বেছে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আয়োজনে বলা হয়, পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, এবং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশ অবদান রাখতে চায়।
একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশব্যাপী সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ধর্মীয় অনুশাসন ও নিরাপদ পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার প্রত্যাশায় অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
জেএমবিএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশজুড়ে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭১। এর মধ্যে ১৬১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ১০ জন শিকার হয়েছে ধর্ষণচেষ্টার। এসব ঘটনার একটি বড় অংশই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নির্দেশনার ঘাটতি ও সুরক্ষার দুর্বলতায় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
গত মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ এই সংকটের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে আবদুল্লাহর মা মামলা করার পর মাদ্রাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলে শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতাই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, এমন অভিযোগ ওঠার পর শিশুর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা, নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো এসওপি বা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। ফলে আদালতে মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল প্রমাণ উপস্থাপনে ত্রুটি থেকে যায়, যা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পথে বড় অন্তরায় তৈরি করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক লোকলজ্জার আশঙ্কায় অনেক ঘটনাই চেপে যাওয়া হয়, যার কারণে ভুক্তভোগী শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কেবল শাস্তির বিধানে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, মাদ্রাসাসহ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন তিনি, যাতে কোনো দ্বিধা ছাড়া শিশুরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারে।
একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি বৃদ্ধি ও শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় একটি মার্কেটের অর্ধেক দখলের অভিযোগ উঠেছে। মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টুর অভিযোগ, তাঁর ভাড়াটিয়া আসাদুর জামান সনেট কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ১৫টি দোকান দখল করে সেখান থেকে ভাড়া তুলছেন এবং দখল করা অংশের নাম দিয়েছেন আসাদুর জামান প্লাজা।
অভিযুক্ত সনেট কালীগঞ্জের বাদেডিহি গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের ভাতিজা।
এলাকাবাসী জানান, ২০১১ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার রেললাইনের পাশে একটি মার্কেট গড়ে তোলেন আছাদুজ্জামান মিন্টু। সেই মার্কেটের নাম দেন মৃধা শাহাজাহান প্লাজা। উপজেলার মিঠাপুকুর মৌজার ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪ ও ৫২৫ নম্বর দাগের পৈতৃক জমি ১৫ শতক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বাণিজ্যিক রাজস্ব দিয়ে ৯৬০ বর্গফুট জমিতে এই মার্কেট নির্মাণ করেন তিনি। মার্কেটটিতে সর্বমোট ৩০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ের জমিতে রয়েছে টিনশেডের ছয়টি দোকান।
২০১৮ সালে মার্কেটের পশ্চিম সারির ৩ নম্বর দোকান ভাড়া নেন সনেট। পাঁচ বছরের চুক্তি শেষ হলে ২০২৩ সালের ১ জুন আবার চুক্তি নবায়ন করেন তিনি। মালিকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি মার্কেট দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৫টি দোকান দখল করে এক মাসের ভাড়া আদায় করেছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মার্কেট দখল নেওয়ার জন্য আসাদুর জামান সনেট ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট ২৩ হাজার ৭৬০ টাকা জমা দিয়ে মিঠাপুকুর মৌজার ৯৩/৯৫ দাগের ৬০০ বর্গফুট জমি রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ডিসিআর কেটে আনেন। এতে স্বাক্ষর করেন পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
এরপর মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু ১৫টি দোকান দখলের পর পাকশীতে যোগাযোগ করেন। পরে এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সনেটের দেওয়া ৬০০ বর্গফুট জমির বরাদ্দ বাতিল করেন ওই কর্মকর্তা। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, সনেট রেল প্রশাসনের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে ৬০০ বর্গফুট ভূমির বাণিজ্যিক রাজস্ব প্রদান বা ক্ষতিপূরণ নোটিশ সংগ্রহ করেছেন এবং প্রকৃতপক্ষে ওই জায়গায় তাঁর দখল ও কোনো স্থাপনা নেই।
আছাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সনেট তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ার কারণে মার্কেটের ১৫টি দোকান দখল করেছেন। চাচা বিএনপি নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর মার্কেট দখল করেছেন এবং নিজের স্থাপনা দখল করে নাম দিয়েছেন আসাদুর জামান প্লাজা।
মৃধা শাহজাহান প্লাজার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসাদুর জামান সনেট এই মার্কেটের ভাড়াটিয়া, তাঁদের মতো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে শোনা যায়, তিনি ১৫টি দোকানের মালিক হয়ে গেছেন এবং এখন থেকে সনেটের কাছে ভাড়া দিতে হবে, নাহলে দোকান ছেড়ে দিতে হবে। এই ভয়ে তিনি সনেটের কাছে সেপ্টেম্বর মাসের ভাড়া দিয়েছেন।
মিন্টু আরও বলেন, তাঁর সব কাগজপত্র বৈধ। রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত আছে ছয়টি দোকান। কিন্তু সনেট তাঁর পৈতৃক জমিতে নির্মাণ করা আরও নয়টিসহ ১৫টি দোকান দখল করে ভাড়া তুলছেন, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র সনেটের নেই। তিনি বলেন, এ বছরের জুন থেকে সনেট নিজের দোকানের ভাড়াও দেন না।
এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেছেন মিন্টু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে নির্দেশ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে আসাদুর জামান সনেট বলেন, রেলওয়ের কাছ থেকে বাতিল হওয়ার কোনো নোটিশ অফিশিয়ালভাবে তিনি পাননি। তিনি ওই মার্কেটের জায়গার এখনো ভাড়াটিয়া। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ১৩টি দোকানের ভাড়া তুলেছেন। এগুলো কোনো পৈতৃক জমিতে নয় বলে তাঁর দাবি। অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থাপনা নির্মাণের খরচ দেওয়ার জন্য তিনি যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু মিন্টু দেখা করেন না।
সনেটের চাচা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মার্কেটের মালিকের কাগজপত্র বৈধ নয়। বিগত ১০ বছর তিনি জমির খাজনা দেন না। এরপর তাঁর ভাইপো সনেট রেলওয়ের কাছ থেকে ডিসিআর নিয়ে এসেছে। অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া তোলা যায় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আসাদুর জামান সনেট বিএনপির কেউ নন। যাঁর মার্কেট দখল করা হয়েছে, তিনি যদি আইনি সহযোগিতা নেন এবং কাগজপত্র সঠিক থাকে, অবশ্যই তাঁর পক্ষে তাঁর অবস্থান থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক কারবারির জায়গা হবে না এবং বিষয়টি জানার পর তিনি ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনের প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে চরমপন্থা ও মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিশিগানের পোর্ট হিউরনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প এল-সায়েদকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ বিমান ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে ‘জিহাদি’ হিসেবে আখ্যা দেন।
পোর্ট হিউরনের সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখানে এসেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্যকে মার্কিন সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে। তিনি আরও দাবি করেন, এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের আগে তাঁকেই একমাত্র মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই এলাকায় ট্রাম্প ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে আয়োজিত এক সভায় এল-সায়েদ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব অভিযোগকে ‘ভণ্ডামি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এল-সায়েদ বলেন, তাঁর নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জামাতার সংস্থায় তাদের বিনিয়োগ বা ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে প্রাইভেট জেট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আপত্তি দেখা যায় না।
অন্যদিকে এই আসনের রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মাইক রজার্স ট্রাম্পের ৯/১১ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জানান, তিনি এল-সায়েদকে সন্ত্রাসী মনে করেন না। তবে প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ ঘেঁষা গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন।
রজার্সের এই অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে নিজের দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কড়া প্রতিবাদ জানান মিশিগানে জন্ম নেওয়া এল-সায়েদ।
এর আগে শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারণায় নেমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই আক্রমণের নিন্দা জানান। ওবামা বলেন, প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় ‘কম আমেরিকান’ হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে, যা অতীতে তাঁর ক্ষেত্রেও কেনিয়ায় জন্ম সংক্রান্ত ভুয়া দাবি দিয়ে করা হয়েছিল।
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৩-৪৭ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪, যা বদলাতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র কয়েকটি আসনে জয়ের প্রয়োজন।