সন্দ্বীপ থেকে ফ্লোরিডা: ডেন্টাল হাইজিনিস্ট, লেখক ও শিল্পী জাহান রিমা এখন মলে নিজের ব্যবসার মালিক

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে জন্ম নেওয়া মাসুমা জাহান রিমা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকেন। পেশায় তিনি একজন ডেন্টাল হাইজিনিস্ট। একই সঙ্গে তিনি লেখক, শিল্পী এবং সর্বশেষ পরিচয়ে উদ্যোক্তা — যুক্তরাষ্ট্রের বড় শপিং মলে তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
নিজের পরিচয় নিয়ে জাহান রিমা বলেছেন, ‘আমার জীবনটা মিশ্র। পেশায় একজন ডেন্টাল হাইজিনিস্ট; মনের কাছে লেখক; আবেগে শিল্পী; আর নিজের ইচ্ছায় আমি একজন উদ্যোক্তা।’ কোন পরিচয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করে জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘সবগুলোই আমি, আবার কোনোটাই শুধু আমি না।’
করোনার সময় ডেন্টাল হাইজিন পেশায় থাকায় তিনি সম্মুখসারিতে কাজ করেছেন। ২০২০ সালে তিনি দুর্গম এলাকায় আক্রান্ত রোগীদের পাশে গিয়েছিলেন। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ‘রিমোট এরিয়া মেডিক্যাল’ (র্যাম) থেকে তিনি প্রশংসাপত্র পেয়েছেন।
লেখক হিসেবে তার প্রথম গল্পের বই ‘যে তুমি মানুষ খোঁজো’ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ২০২১ সালে যমজ বোন জাহান রিপার সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশ করেন কবিতার বই ‘রিপাবনে বিভোরিমা’। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বই ‘আনন্দবাড়ির আব্বু’ লিখছেন।
লেখার সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ২০১৪ সালে তার কবিতা নিয়ে নির্মিত আবৃত্তি ও সংগীতের ভিডিওতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন দেশের একজন সুপরিচিত আবৃত্তিশিল্পী। দেশের বিভিন্ন পত্রিকাতেও তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোভিত্তিক বাংলা সাময়িকী একতারার সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ‘বাংলাটাইমস ৩৬০’-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি নতুন করে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও ডেন্টাল হাইজিনে ভর্তি হন। ছয়-সাত বছরের পড়াশোনা শেষে তিনি একটি জরুরি ডেন্টাল ক্লিনিকে কাজ শুরু করেন।
প্রায় পাঁচ বছর আগে ফ্লোরিডার অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ত শপিং মল ‘দ্য ফ্লোরিডা মল’-এ একটি কিয়স্ক দিয়ে যাত্রা শুরু করে তার প্রতিষ্ঠান জাহান’স আর্টিস্টিক ওয়ার্ল্ড। সেখানে তিনি মেহেদি, বডি আর্ট, পোর্ট্রেট, ক্যারিকেচার ও পেইন্টিংয়ের সেবা দেওয়া শুরু করেন।
শুরুর স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুতে ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। যদি না চলে? আমার আগে কেউ কেন করেনি? তার ওপর ছিল মলের চড়া ভাড়া আর অনিশ্চয়তা।’ তিনি ইউনিভার্সাল স্টুডিওর শিল্পীর চাকরি ছাড়েন এবং ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মরক্কো প্যাভিলিয়নে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন।
বর্তমানে ‘দ্য ফ্লোরিডা মল’ ছাড়াও ‘অরল্যান্ডো ভাইনল্যান্ড প্রিমিয়াম আউটলেটস’-এ তার নতুন শাখা চালু হয়েছে। পাশাপাশি অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এমসিও) তার একটি লন্ড্রোম্যাট ব্যবসা রয়েছে।
নিজেকে সফল মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বলব না আমি সফল হয়ে গেছি। এখনো অনেক পথ বাকি; কিন্তু আমি আমার নিজের মতো করে সফল। আমার কাছে সাফল্য মানে মনের সুখ।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেহেদি শিল্পকে আমেরিকার মলে নিয়ে আসতে পেরে তার আনন্দ হয়।
মেহেদি ছাড়াও তেলরং, জলরং, ওয়ান-লাইন আর্ট ও মিক্সড মিডিয়ায় তিনি নিয়মিত কাজ করেন। সম্প্রতি একজন গুরুর কাছে তিনি ক্যারিকেচার শিখছেন। পরিবারকে তিনি তার শক্তি বলে উল্লেখ করে বাড়িটিকে ‘আনন্দবাড়ি’ বলে ডাকেন। সম্প্রতি অরল্যান্ডো ভয়েজার ম্যাগাজিনের ‘হিডেন জেম’ সিরিজেও তাকে নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে।




