স্থলমাইন বিস্ফোরণের অভিযোগ ‘সাজানো’, জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে বলল উত্তর কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সৈন্য আহত হওয়া স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘সাজানো’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রোববার নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে ‘সন্দেহজনক মাইন বিস্ফোরণের’ দায় ভিত্তিহীনভাবে চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘উসকানি’ বলে উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হলে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ আসতে পারে।
দুই কোরিয়াকে আলাদা করা অসামরিকীকৃত অঞ্চলের (ডিএমজেড) ভেতরে গত ২১ সেপ্টেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইনকে দায়ী করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে উত্তেজনা বেড়েছে; উত্তর কোরিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিনিধির অভিযোগ, মাইন ঘটনাটি ছিল উত্তর কোরিয়াকে ‘সামরিক আক্রমণকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ‘অশুভ বাধা সৃষ্টির কৌশল’, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি কোরীয় উপদ্বীপে বাড়তে থাকা উত্তেজনার দায় এড়ানোর ‘প্রহসন’।
চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার চলমান সীমান্ত দুর্গ নির্মাণের কাজ জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে পুরোপুরি মিল রেখে সার্বভৌমত্বের বৈধ ও ন্যায্য চর্চা। একই সঙ্গে ডিএমজেডে সৈন্যদের দিকে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সনদ লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সামরিক সীমারেখা (এমডিএল) অতিক্রম করলে তাদের উত্তরে ফিরে যেতে সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা এমডিএল-সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত সড়ক ও বেড়া নির্মাণ করছে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে মাইন বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে এবং এটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডও বলেছে, উত্তর কোরিয়ার মাইন পুঁতে রাখা ১৯৫৩ সালে শত্রুতা বন্ধে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
উত্তর কোরিয়ার এই চিঠির কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে সীমান্তের ‘সুনির্দিষ্ট অবস্থান যৌথভাবে নিশ্চিত’ করার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল।

