বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির শৃঙ্খলা নিয়ে চার দিনের প্লেনাম শুরু, উপস্থিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৩০০ সদস্য
চীনের রাজনৈতিক নেতা ও অভিজাতদের চার দিনের একটি বৈঠক সোমবার শুরু হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে শৃঙ্খলা আরও শক্ত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
পঞ্চম প্লেনাম নামে পরিচিত এই বৈঠক ঘিরে দেশটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত মেলে কি না, তা নিবিড়ভাবে লক্ষ করা হচ্ছে।
বন্ধ দরজার এই সমাবেশ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন প্রায় এক বছর পর প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দলের নেতা হিসেবে চতুর্থ পাঁচ বছর মেয়াদ নিশ্চিত করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব সংস্থাগুলোতে কর্মী পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৩০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
সি তাঁর ক্ষমতা সুসংহত করলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই প্লেনাম তাঁকে বেইজিংয়ের চাওয়া অনুযায়ী কর্মকর্তাদের কাজ সাজানোর আরেকটি সুযোগ দেবে। লন্ডনের টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, প্লেনামটি নতুন প্রজন্মের উঠে আসা কর্মকর্তারা যেন সুযোগ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত থাকেন, তা নিশ্চিত করার একটি সুযোগ।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্লেনামে কমিটি ‘পূর্ণ ও কঠোর দলীয় আত্মশাসন’ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি খসড়া নীতি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ক্যাডারদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, কার্যকর ও কম দুর্নীতিগ্রস্ত করা। বিশ্লেষকদের মতে, সি আরও তদারকি ও নিয়ম আরোপ করে ক্যাডারদের দক্ষতা ও আনুগত্য সর্বোচ্চ করতে চাইছেন।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল থমাসের মতে, সরকারি ব্যয় ও বড় প্রকল্পে আরও কঠোর নজরদারি, দুর্নীতি উদ্ঘাটনে প্রযুক্তির বেশি ব্যবহার এবং সির অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর পরিণতির দাবি উঠতে পারে।
সির ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের কারণে এবারের প্লেনামে উপস্থিতি ১৯৭৬ সালে সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর সবচেয়ে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির আটটি আসন খালি রয়েছে, আর আরও ১৫ জন সদস্য তদন্তের মুখে থাকায় তাঁদের বদলি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সির দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামরিক বাহিনীকেও লক্ষ্য করেছে, যেখানে দলের সর্বোচ্চ সশস্ত্র বাহিনী সংস্থা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্লেনামে ওই কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ হতে পারে এবং সি সামরিক বাহিনীর ওপর দলের নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনও করতে পারেন।
আলোচনাটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি টানা মন্থর অভ্যন্তরীণ ব্যয় এবং গুরুত্বপূর্ণ আবাসন খাতের দীর্ঘ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও চীনের নেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।


