মিশিগান সিনেট লড়াইয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’-এ মুখোমুখি রজার্স ও উপস্থাপক ওয়েলকার, এল-সায়েদকে ‘ছাড় দেওয়ার’ অভিযোগ

মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান। বিষয় ছিল তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ।
রজার্স অভিযোগ করেন, ওয়েলকার তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে রক্ষা করছেন। ওয়েলকার বলেন, এল-সায়েদ আগেই মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন এবং তার আগের সাক্ষাৎকারেও তিনি সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন।
জবাবে রজার্স বলেন, ‘না, তিনি করেননি, তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন... আমি জানি না আপনি কেন এই লোকটিকে ছাড় দিচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এমন একটি বিষয়ে তাকে ছাড় দিচ্ছেন, যার জন্য তার জবাবদিহি করা উচিত।’ দুজনেই একে অপরের কথা থামিয়ে কথা বলছিলেন।
ওয়েলকার রজার্সকে তার নিজের ২০১২ সালের মন্তব্য মনে করিয়ে দেন। পর্দায় তার পুরোনো উক্তি দেখানো হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে মুসলিম ব্রাদারহুডের মধ্যপন্থি সদস্যদের সঙ্গে ‘যোগাযোগ করতে ও কথা বলতে’ হবে। ওয়েলকার জানতে চান, তিনি একসময় তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে রাজি ছিলেন কি না তিনি তা স্বীকার করেন কি না।
রজার্স বলেন, ওয়েলকার তার কথাকে বিকৃত করে এল-সায়েদকে রক্ষা করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীর রেকর্ড যাচাই করছেন না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তখন তিনি হাউস গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, যাতে আরও আঞ্চলিক সহিংসতা ঠেকানো যায়।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ওয়েলকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এল-সায়েদকে সহিংস সন্ত্রাসী বলার প্রসঙ্গ তোলেন। ওয়েলকার সেই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও বলেন, এল-সায়েদ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন এবং সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রজার্স বলেন, তিনি নিজে কখনো তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীকে সন্ত্রাসী বলেননি। তার ভাষায়, ‘আমি কখনো তাকে সন্ত্রাসী বলিনি।’
রজার্সের প্রচার শিবির পরে এক বিবৃতিতে সমালোচনা আরও জোরালো করে। মুখপাত্র অ্যাবি রনসন এল-সায়েদের জবাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় গণমাধ্যমকে তার রেকর্ড যাচাই করার আহ্বান জানান। রনসনের ভাষায়, এল-সায়েদ অক্সফোর্ডে প্রশিক্ষিত বিতার্কিক, অথচ মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তার সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই তিনি এড়িয়ে যান, রেগে যান এবং প্রশ্নটি উড়িয়ে দেন।
রজার্সের অভিযোগের সূত্র হিসেবে প্রতিবেদনে এল-সায়েদ, তার পরিবারের সদস্য ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মধ্যে আগে প্রতিবেদিত সংযোগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১২ সালের একটি চিঠি, যা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসিকে সমর্থন করেছিল।
ওয়াশিংটন ফ্রি বিকনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদ ছিলেন মিশরীয় আমেরিকান সম্প্রদায়ের ৪৬ জন ব্যক্তির একজন, যারা ২০১২ সালের নভেম্বরে মুরসির সিদ্ধান্ত সমর্থন করে এবং পুলিশ ও গণমাধ্যম থেকে লোক সরানোর আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে সই করেছিলেন।
এল-সায়েদ বলেছেন, তিনি তার বাবা ও সৎমায়ের কাছে বড় হয়েছেন এবং রজার্সের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার মুসলিম বিশ্বাসকে কাজে লাগানোর অভিযোগ করেছেন। ১১ অক্টোবর ‘মিট দ্য প্রেস’-এ ওয়েলকারের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, তার বা তার পরিবারের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই।




