শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের আগে আলোচনায় সি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, গত বছর তদন্তে ১০ লাখের বেশি মানুষ

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আবার আলোচনায় এসেছে। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে দলটির ‘পঞ্চম প্লেনাম’, যেখানে ‘দলের পূর্ণ ও কঠোর আত্মশাসন এগিয়ে নেওয়ার প্রধান বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা হবে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
২০১২ সালে ক্ষমতায় এসে সি চিন পিং দলের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক দশকের বেশি সময় পরেও তদন্তের গতি কমেনি। গত বছর চীনের শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ ১০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যাদের মধ্যে মন্ত্রী বা প্রাদেশিক পর্যায়ের বা তার ওপরে থাকা ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা ছিলেন।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তদন্তে প্রায় সব সময় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা দেখায় লক্ষ্যবস্তুরা সত্যিই দুর্নীতিগ্রস্ত, নাকি তারা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিংস কলেজ লন্ডনের লাউ চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক কেরি ব্রাউন বলেছেন, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবা সি চিন পিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে দুটির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নাও থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি দুর্নীতিগ্রস্ত হলে আপনি রাজনৈতিকভাবে অনুগত নন। আপনি রাজনৈতিকভাবে অনুগত হলে আপনি দুর্নীতিগ্রস্ত নন।’
ব্রাউন আরও বলেছেন, কমিউনিস্ট পার্টির ব্যবস্থায় দুর্নীতি শুধু বস্তুগত বিষয় নয়, এর মধ্যে ‘আধ্যাত্মিক দুর্নীতি’ও আছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক অবিশ্বস্ততা পড়ে।
এশিয়া সোসাইটি থিঙ্কট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল থমাস বলেছেন, ‘সি দলকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত করেছেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করেছেন, কিন্তু তিনি জানেন কঠোর শাস্তি কর্মকর্তাদের নিজের স্বার্থকে দলের স্বার্থের ওপরে রাখার সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করতে পারে না।’ থমাসের মতে, সি চিন পিংয়ের উত্তর হলো শৃঙ্খলা আরও কঠোর করা এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে শাসনের স্থায়ী পদ্ধতিতে পরিণত করা।
প্লেনাম হলো পার্টি কংগ্রেসের মধ্যবর্তী পাঁচ বছরের চক্রে হওয়া সাতটি বৈঠকের পঞ্চমটি। এসব বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০০ জনের বেশি সদস্য একত্র হন, যাঁরা দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আসন্ন বৈঠকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সম্ভবত আগামী বছরের ২১তম পার্টি কংগ্রেসের আগে শেষ বড় বৈঠক। ওই কংগ্রেসে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি বেছে নেওয়া হবে এবং সি চিন পিং কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে চতুর্থ মেয়াদের জন্য মনোনীত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান মনোযোগের কেন্দ্রে আছে দল ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। জানুয়ারিতে চীনের শীর্ষ জেনারেল ও সামরিক শ্রেণিবিন্যাসে সি চিন পিংয়ের পরেই থাকা ঝাং ইউশিয়াকে তদন্তের আওতায় আনা হয়। ধারাবাহিক অপসারণের পর কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্যসংখ্যা স্বাভাবিক সাতজন থেকে কমে দুজনে নেমেছে: সি চিন পিং এবং কমিশনের শৃঙ্খলা প্রধান ঝাং শেংমিন।
সাম্প্রতিক অপসারণের মধ্যে আরও আছেন সিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি সচিব মা সিংরুই এবং চংকিংয়ের সাবেক মেয়র হুয়াং কিফান।


