হাতীবান্ধায় তিনজনকে আহত করা চিতাবাঘের অবস্থান ড্রোনে শনাক্ত, উদ্ধারে ঢাকা-রংপুরের বন বিভাগের দল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারত থেকে এসে নারীসহ তিনজনকে আহত করা চিতাবাঘটির অবস্থান ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় সীমান্তের একটি জঙ্গলের ভেতরে বাঘটিকে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাতে ড্রোনের মাধ্যমে চিতাবাঘটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়রা রাতে পাহারায় ছিলেন। ঢাকা ও রংপুর থেকে বন বিভাগের দুটি টিম এসেছে; তাদের বাঘটির অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাঘের হামলায় নারীসহ তিনজন আহত হন।
আহতরা হলেন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলী (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে শরিফা বেগম ধানক্ষেতে নিজের ছাগল খুঁজতে যান। সীমান্তের কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি বাঘ তাঁর ছাগলটিকে আক্রমণ করছে। ভয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে বাঘটি তাঁকেও আক্রমণ করে।
শরিফা বেগমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন লাঠি নিয়ে এগিয়ে এলে বাঘটি তাদের ওপরও চড়াও হয়; এতে আরও দুজন আহত হন। পরে লোকজনের ধাওয়া ও টহলরত বিজিবি সদস্যদের দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলির মুখে বাঘটি একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে হাজারো মানুষ লাঠি নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন। সন্ধ্যার পর বিজিবি সদস্যরা মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন এবং বাঘটিকে নিরাপদে ধরা ও নজরদারিতে রাখার জন্য ধানক্ষেতসহ চারপাশ ঘিরে রাখতে সহযোগিতা চান।
রাত বাড়লে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজিবি ড্রোন ওড়ায়। মধ্যরাতে ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটি লুকিয়ে রয়েছে। বর্তমানে বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সারারাত ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।




