লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ধানক্ষেতে বাঘের হামলা, নারীসহ আহত তিনজন
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্ত এলাকায় বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল এলাকায় ৯০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি ধানক্ষেতে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর ধাওয়ায় বাঘটি শেষ পর্যন্ত সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।
আহতরা হলেন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), একই এলাকার নজরুল ইসলাম এবং আফসার আলী। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেলে শরিফা বেগম তাঁর ছাগল খুঁজতে ধানক্ষেতে যান। সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি দেখতে পান, একটি বাঘ একটি ছাগলকে আক্রমণ করেছে। দৃশ্যটি দেখে ভয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন।
শরিফা বেগমের চিৎকার শুনেই বাঘটি তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ চালায়। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠি হাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন ক্ষিপ্ত বাঘটি স্থানীয়দের ওপরও চড়াও হয়।
বাঘের এই আক্রমণে শরিফা বেগমসহ মোট তিনজন আহত হন। পরে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ধাওয়া করলে বাঘটি সীমান্ত এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের এই সাহসী তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি দেখা দিলে চিকিৎসক গুরুতর আহত দুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মামুন রহমান জানিয়েছেন, বাঘের আক্রমণে আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসেছিলেন এবং তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেছেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্যরাও রয়েছেন এবং আহতদের পরিবারের লোকজন তাঁদের চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে গেছেন।
সীমান্তবর্তী আমঝোল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে ধানক্ষেত আর দৈনন্দিন কাজ সীমান্তের একেবারে কাছেই। ফলে বনের দিক থেকে বা সীমান্ত পেরিয়ে কোনো বন্য প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে সাধারণ মানুষ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েন, যেমনটি ঘটেছে আজ বিকেলে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর ধানক্ষেতের দিকে যাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ বাঘটি কোন দিকে গেছে এবং আবার ফিরে আসবে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বাঘের আক্রমণে আহত হওয়ার ঘটনা বিরল হলেও সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে তা স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন জমিতে কাজ করতে বা গবাদিপশু চরাতে সীমান্তের কাছাকাছি যান, তাঁদের জন্য এই ঝুঁকি বাস্তব।
এখন সবার নজর আহতদের চিকিৎসার দিকে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে, পাশাপাশি বাঘটির গতিবিধি নিয়ে বন বিভাগ বা সীমান্তরক্ষীদের কোনো নতুন তথ্য আসে কিনা, সেদিকেও নজর থাকবে।




