পিপিপিতে এগোবে ১৫টি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: দোহায় জানালেন আশিক চৌধুরী

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ১৫টি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ এগোবে।
কাতারের রাজধানী দোহায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের আয়োজনে চলছে ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬। ফোরামের মন্ত্রিপর্যায়ের এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। রোববার ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
আঙ্কটাড ও কাতার সরকার যৌথভাবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের এই ফোরামের আয়োজন করেছে। দুই বছর পরপর হওয়া এই ফোরাম জাতিসংঘের বিনিয়োগ ও উন্নয়নবিষয়ক প্রধান আন্তর্জাতিক মঞ্চ; এবার বসেছে এর নবম আসর।
প্যানেল আলোচনায় আশিক চৌধুরীর কাছে দুটি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়—নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ কেমন, আর সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা আছে। জবাবে তিনি বলেন, তিনটি সংস্থাকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে, ফলে কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংস্থা তিনটি হলো বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)। গত ২০ আগস্ট ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ কার্যকর হয়; এরপর ২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সংস্থাটি কার্যক্রম শুরু করে।
আশিক চৌধুরী এর আগে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলেন। নতুন সংস্থায় তাঁকে এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পোস্টে বলা হয়, সংস্থাটির পাইপলাইনে থাকা ১৫টি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প আগামী কয়েক মাসে পিপিপির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে প্রকল্পগুলোতে কত বিনিয়োগ লাগবে, কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, প্রকল্প কোথায় হবে এবং কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে। এর বিপরীতে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ১ হাজার ৪৭৩ মেগাওয়াট—মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশের মতো।
অতীতের লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। ২০০৮ সালে সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছিল; পরে ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশের লক্ষ্য নেওয়া হয়। দুটি লক্ষ্যই পূরণ হয়নি।
জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আইইইএফএর হিসাবে, ২০৩০ সালের লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে প্রতিবছর প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা যোগ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সারা দেশে মোট ৫৯০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১২টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দিতে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মনে করছে, লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া উপায় নেই; সে কারণে পিপিপির আওতায় বড় সৌর প্রকল্প নেওয়ার এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।



