‘মেড ইন ইউরোপ’ গাড়ি পরিকল্পনায় এশিয়ার তীব্র আপত্তিতে ‘বিস্মিত’ জার্মান চ্যান্সেলর মার্জ
ইউরোপের গাড়ি খাতের জন্য পরিকল্পিত ‘মেড ইন ইউরোপ’ নিয়মের বিরুদ্ধে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আপত্তির তীব্রতা দেখে তিনি ‘বিস্মিত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ।
মার্জ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে সম্মত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রাসেলস গাড়ির ভর্তুকি সীমাবদ্ধ রাখবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ভেতরে উৎপাদিত যানবাহনের ক্ষেত্রে। এশিয়ার দেশগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি মার্জের কাছে ‘কোরিয়াকে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতো বিবেচনা করার’ সমর্থন চেয়েছেন। জাপান থেকেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।
পাঁচ দিনের পূর্ব এশিয়া সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেরার আগে সাংবাদিকদের মার্জ বলেন, ‘যে তীব্রতা দিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা আসলে আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে।’
মার্জ স্বীকার করেছেন, ফরাসি-জার্মান প্রস্তাবটি ‘ওই অঞ্চলে—সিঙ্গাপুর, জাপান ও কোরিয়ায়—যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে যে আমরা হয়তো ইউরোপে সুরক্ষাবাদের নতুন ঢেউয়ের মুখোমুখি হচ্ছি, আমরা নিজেদের অন্যদের কাছ থেকে বন্ধ করে দিচ্ছি।’
চ্যান্সেলর বলেছেন, এসব অভিযোগ তিনি ‘খুব গুরুত্বসহকারে’ নেবেন এবং পরবর্তী ইইউ নেতাদের সম্মেলনে সেগুলো তুলবেন। ব্লকের নেতারা ১৩ নভেম্বর ডাবলিনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমাবেশে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সিউল ও টোকিওতে দেওয়া বক্তৃতায় মার্জ তথাকথিত মধ্যশক্তিগুলোর মধ্যে ‘নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের জন্য বৈশ্বিক রাজনৈতিক জোটের’ প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ইইউ, এশিয়ার দেশসমূহ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আমেরিকার মার্কোসুর বাণিজ্য জোটের উচিত ‘সমন্বয়’ করা এবং অন্যরা আন্তর্জাতিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করলে কিংবা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হলে একসঙ্গে ‘পদক্ষেপ নেওয়া’।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের আপত্তি তীব্রভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে, শিল্পভিত্তিক ঘর্ষণ কীভাবে মার্জের প্রস্তাবিত বড় জোট বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।



