বিল না কমালে নতুন অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভেটো দেবেন ব্রিটেনের চ্যান্সেলর হিলি

বিদ্যুতের বিল কমাতে পারবে না—এমন নতুন অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভেটো দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্রিটেনের চ্যান্সেলর জন হিলি। তাঁর এই ঘোষণায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষের কর্মসূচি থেকে সরে আসছে।
পরিকল্পনা ঘোষণা করে হিলি বলেন, পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎই আন্তর্জাতিক গ্যাসের দামের খপ্পর থেকে বিলকে মুক্ত করার পথ। তবে সেই রূপান্তর হতে হবে সঠিক গতিতে, সঠিক জায়গায় এবং বিদ্যুৎ বহনের গ্রিড তৈরি থাকা সাপেক্ষে, যোগ করেন তিনি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তুকি চুক্তির জন্য আবেদন করা অফশোর বায়ু প্রকল্প তখনই মন্ত্রীদের অনুমোদন পাবে, যখন তাঁরা মনে করবেন উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ ভোক্তার খরচ না বাড়িয়ে ব্রিটেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে নেওয়া সম্ভব।
টাইমস পত্রিকায় লিখে হিলি বলেন, সংযোগই দেওয়া যাবে না এমন বিদ্যুৎ তৈরি করে পরে তা বন্ধ রাখার জন্য অর্থ দেওয়ার কোনো মানে হয় না। পরের নবায়নযোগ্য নিলামে সরকার সেই পদ্ধতিই নেবে—শুধু এমন প্রকল্প কেনা হবে, যা বিল কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে।
এই পদক্ষেপকে লেবার সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের লক্ষ্য থেকে আরও একটি সরে আসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই হিলি জ্বালানি বিভাগের বাজেট থেকে ৩০০ কোটি পাউন্ডের বেশি ছাঁটাইয়ের কথা জানিয়েছেন, যার বড় অংশ যাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে।
ছাঁটাইয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা সতর্ক করেছেন, এতে সবুজ উত্তাপের লক্ষ্য পূরণ ব্রিটেনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে, এবং একে সাবেক জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ডের সবুজ কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সরকারের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে অপচয় হওয়া বায়ুবিদ্যুতের খরচ নিয়ে। বিদ্যুৎ বিল থেকে অর্থ পাওয়া ন্যাশনাল এনার্জি সিস্টেম অপারেটরকে (নেসো) অনেক সময় বায়ু টারবাইন বন্ধ রাখতে অর্থ দিতে হয়, যখন উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো তারের সক্ষমতা থাকে না।
সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল অডিট অফিসের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল, এই সমস্যা সামলাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বছরে সম্ভাব্য ৭৮০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বিল দিতে হতে পারে।
সমালোচনার জবাব আগাম দিতে গিয়ে হিলি বলেন, এটি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ থেকে পিছু হটা নয়, বরং সেখানে পৌঁছানোর বিশ্বাসযোগ্য পথ। সস্তা বিদ্যুৎ হলে ব্যবসা ও পরিবারের পক্ষে বিদ্যুতে রূপান্তর সহজ হবে, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং অর্থনীতির কার্বন কমাতেও সাহায্য হবে, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যোগ হওয়া নবায়নযোগ্য উৎপাদন না থাকলে চলতি বছরের গ্যাসের দামের ধাক্কা পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি আঘাত করত। যাঁরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছিঁড়ে ফেলতে চান, তাঁরা ব্রিটেনকে অস্থির বাজার ও তা কাজে লাগানো স্বৈরশাসকদের কাছে আরও বেশি উন্মুক্ত করে দেবেন, যোগ করেন হিলি।
বাজেট ছাঁটাইয়ের একটি শিকার হয়েছে হিট পাম্প ভর্তুকি কর্মসূচির অর্থ কমে যাওয়া, যা নিয়ে পরিচ্ছন্ন উত্তাপের লক্ষ্য দুর্বল হওয়ার সতর্কবার্তা এসেছে। এই কর্মসূচিতে একটি সাধারণ পরিবার হিট পাম্পের জন্য ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত দাবি করতে পারে; এখন বছরে প্রায় ৬০ হাজার বাড়িতে হিট পাম্প বসানো হয়, আর সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তা বছরে ২ লাখ ৫০ হাজারে তোলা। কর্মসূচির অর্থায়ন চলতি বছরের ৪০ কোটি পাউন্ড থেকে ২০২৯-৩০ সালে ৭০ কোটি পাউন্ডের কিছু বেশি করার পরিকল্পনা ছিল।
জ্বালানি বিভাগের ছাঁটাইয়ের মধ্যে বয়লার আপগ্রেড কর্মসূচি থেকেই যাবে ৭৪ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড, যে কর্মসূচি গ্যাস বয়লারের বদলে বৈদ্যুতিক হিট পাম্প বসাতে মানুষকে উৎসাহ দেয়। তবে মিলিব্যান্ড ও তাঁর উত্তরসূরি মিয়াট্টা ফানবুলেহর মিত্ররা জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারের সবুজ কর্মসূচি আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে; তাঁরা হিলির সেই ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে সবুজ খরচ দীর্ঘ মেয়াদে বিল থেকে সরিয়ে করদাতাদের ওপর নেওয়ার কথা বলা হয়েছে—যা দুই জ্বালানি সচিবই সমর্থন করে এসেছেন।
বুধবার হিলি ঘোষণা করেন, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার অর্থের একটি অংশ অন্য বিভাগগুলোর ছাঁটাই থেকেই আসবে, যার বড় অংশই পড়েছে জ্বালানি বিভাগের ওপর।



