ব্রিটেনের দাস বাণিজ্যে ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে ‘খোলা মন’ প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের, তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণে রাজি নন
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, আটলান্টিকপারের দাস বাণিজ্যে ব্রিটিশ রাষ্ট্রের ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি ‘খোলা মন’ পোষণ করেন। তবে ক্যারিবীয় দেশগুলোর আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বার্নহাম দাস বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে একটি ‘কাঠামোগত সংলাপের’ প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “কমনওয়েলথকে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখতে এই কঠিন আলোচনাগুলো করা সঠিক কাজ। এটি দেশপ্রেমেরও কাজ।”
তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। বার্নহাম লিখেছেন, ক্ষতিপূরণ সঠিক সমাধান হবে না। তাঁর যুক্তি, “আমি মনে করি না যে আজকের ব্রিটিশ জনগণকে ঐতিহাসিক অন্যায়ের জন্য দায়ী করা যায়, সেগুলো যত ভয়াবহই হোক না কেন—সেসব ঘটেছিল ভিন্ন যুগে, ভিন্ন আইনের অধীনে এবং সেগুলোতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না।”
ক্যারিবীয় নেতারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন। গত জুনে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি ক্যারিবীয় নেতাদের একটি ইশতেহার ঘোষণা করেন, যেখানে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের ‘নৈতিক, নীতিগত ও আইনি যুক্তি’ তুলে ধরা হয়েছে।
বার্নহাম অ্যান্টিগা ও বার্বুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন; বুধবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। রাজা চার্লসের সঙ্গে এটি হবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
এই সম্মেলন বার্নহামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগের সম্মেলনে তাঁর পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের সফর দাস বাণিজ্যের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিতর্কে ছায়াচ্ছন্ন হয়েছিল; এবার বার্নহাম তেমন সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



