যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসতির অপেক্ষা বাড়ছে: অনেকের ক্ষেত্রে ১০, কারও ১৫ বছর

যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসীদের স্থায়ী বসতির (সেটলমেন্ট) জন্য অপেক্ষার সময় বড় আকারে বাড়াতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সোমবার এ সংক্রান্ত ব্যাপক নতুন নিয়ম ঘোষণা করবেন; অধিকাংশ অভিবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে এক দশক, আর কারও কারও ক্ষেত্রে তা হতে পারে ১৫ বছর পর্যন্ত।
পরামর্শের জন্য প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থায়ী বসতির মানক যোগ্যতার সময়কাল পাঁচ বছর থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ১০ বছর হবে। স্নাতক স্তরের নিচের পেশায় কর্মরতদের—যাদের মধ্যে যত্নকর্মীরাও (কেয়ার ওয়ার্কার) আছেন—ক্ষেত্রে এই সময়কাল হতে পারে ১৫ বছর, যদিও এতে ছাড় ও হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে।
মাহমুদ প্রস্তাব করেছেন, বৈধ অভিবাসীরা ‘পয়েন্ট-ভিত্তিক পদ্ধতিতে’ স্থানীয় সমাজে অবদান দেখাতে পারলে কিংবা বেশি আয় করলে বসতির অপেক্ষার সময় কমানো যেতে পারে।
সংশোধনীগুলোর ওপর পরামর্শ প্রক্রিয়ার সরকারি জবাব সোমবার সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এতে যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে কর্মরত যত্নকর্মীদের কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও অন্যান্য অধিকাংশ পেশার মানুষকে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারসহ মন্ত্রীরা যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে থাকা যত্নকর্মীদের ওপর এই নিয়মের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; এই কর্মীদের স্থায়ী বসতির (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন বা আইএলআর) জন্য ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
গত পাঁচ বছরে স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রায় দুই লাখ স্বাস্থ্য ও যত্নকর্মী ভিসা দিয়েছে, এবং আরও অনেকে এসেছেন তাঁদের নির্ভরশীল হিসেবে।
সরকারি জবাবের আগের দিন সংসদ সদস্যরা সতর্ক করেছেন, অভিবাসন প্রস্তাবগুলো উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির অবিচারের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন খাতে কর্মী ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
জুন মাসে রেইনার বলেছিলেন, ব্রিটেনে ইতিমধ্যে থাকা যত্নকর্মীদের স্থায়ী বসতির জন্য ১৫ বছর অপেক্ষা করানো ‘অ-ব্রিটিশ’ আচরণ। সেপ্টেম্বরে জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ বলেন, এই পরিকল্পনা তাঁর নিজের পরিবারের জন্য ‘কঠিন’ হতো; তাঁর পরিবার শরণার্থী হিসেবে ব্রিটেনে এসেছিল।
শাবানা মাহমুদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংসদ সদস্য এবং অভিবাসী কর্মী, বর্ণ-সাম্য প্রচারক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো প্রস্তাবগুলোকে ‘উইন্ডরাশ যুগের নীতির পুনরাবৃত্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
২৯ অক্টোবর তারিখের চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা মন্ত্রীদের প্রতি প্রস্তাবগুলো বাতিল করে ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন, অথবা ন্যূনতম অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে বলেছেন। তাঁদের যুক্তি, বিদ্যমান বসতির শর্ত ধরে যাঁরা জীবনের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের জন্য নিয়ম বদলে দেওয়া অন্যায় হবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মীরা দেশ ছেড়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন লেবার দলের সংসদ সদস্য বেল রিবেইরো-অ্যাডি, ডায়ান অ্যাবট, ক্লাইভ লুইস ও র্যাচেল মাসকেল এবং গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য এলি চাউন্স, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি ও হান্না স্পেন্সার। সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ক রাইটস সেন্টার, অ্যাকশন ফর রেস ইকুয়ালিটি, কেয়ার ইংল্যান্ড ও সোসাইটি অব রেডিওগ্রাফার্স।
স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন, স্বাস্থ্য ও যত্ন খাত ইতিমধ্যে ‘বিপজ্জনকভাবে কর্মী-ঘাটতিতে’ রয়েছে এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তন ‘যুক্তরাজ্যের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ’ আরও খারাপ করার ঝুঁকি তৈরি করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কর্মীরাই বর্তমান সেবার স্তর ধরে রাখতে অপরিহার্য; তাঁরা না থাকলে সেবা সংকুচিত হবে এবং অপূর্ণ চাহিদা বাড়বে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারিতে মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশদের ভুলভাবে আটক, বহিষ্কার এবং কাজ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, যদিও তাঁদের ব্রিটেনে বসবাসের অধিকার ছিল।
গত বছর ‘আর্নড সেটলমেন্ট’ পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু করার সময় মাহমুদ ব্রিটেনকে ‘বহু-ধর্মীয়, বহু-জাতিগত গণতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, এখানে ‘অবদান ও একীভূতকরণ’ প্রয়োজন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠা তাই অধিকার নয়, একটি বিশেষ সুবিধা—এবং তা অর্জন করে নিতে হয়।’




