লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থকদের বিক্ষোভে ৩২৫ জন আটক

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে শনিবার ৩২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে দূতাবাস ভবনের বাইরে থেকে ৩২০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ আইনে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই আটকের ঘটনা ঘটল প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের শুনানির আগে। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনই প্রথম সরাসরি কর্মসূচিভিত্তিক গোষ্ঠী, যাকে সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি গত বছরের ৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গণ আইন অমান্য কর্মসূচির আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানিয়েছে, শনিবারের আটক নিয়ে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে আটক ব্যক্তির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,২০০ জনে।
আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগকে ‘আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে রাখার জন্য আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মোট আটকের সংখ্যাটি উঠে আসতে পারে। এই মামলায় শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এই যুক্তির ভিত্তিতে যে, নিষেধাজ্ঞাটি বাকস্বাধীনতা ও বিক্ষোভের অধিকারে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ হতে পারে বলে যুক্তি দেওয়ার অবকাশ আছে।
এর আগে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল যে নিষেধাজ্ঞাটি বেআইনি, কিন্তু আপিল আদালত সেই রায় উল্টে দেয়। তবে প্ল্যাকার্ড ধরে রাখা ব্যক্তিদের পরিণতিকে দুই আদালতের কোনোটিই খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে প্রায় ২,৫০০ জনকে সন্ত্রাসবাদ আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞাটি বৈধ কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সব বিচার স্থগিত রাখা হয়েছে।
শনিবার এডিনবরাতেও একটি মৌন অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়, তবে পুলিশ স্কটল্যান্ড সেখানে কাউকে আটক করেনি।
এর আগে সেপ্টেম্বরে এলবিসি রেডিওতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছিলেন, প্ল্যাকার্ড ধরে রাখার জন্য বয়স্ক মানুষ, যাজক ও দাদি-নানিদের আটক করা হবে, এমনটি কারও উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে দেখতে হবে এবং সরকার হিসেবে তাঁরা বিষয়টি পর্যালোচনায় রাখছেন।
এর পরের সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক হতে দেখা তাঁর জন্য ‘খুব অস্বস্তিকর’ ছিল। তবে তিনি নিষেধাজ্ঞাটির পক্ষেই অবস্থান নেন।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি বৃহস্পতিবার শেষ হবে, তবে রায় পরবর্তী তারিখের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।




