স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কেমব্রিজের বিজ্ঞানী মার্তা শাহবাজি, পুরস্কার নিতে যাচ্ছিলেন তিনি

স্পেনের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পুরস্কারজয়ী গবেষক। ড. মার্তা শাহবাজি তাঁর নিজ দেশ স্পেনে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের জন্য একটি পুরস্কার সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
বুধবার তাঁর ট্রেনটি মাদ্রিদের দক্ষিণে উরদার কাছে আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ওই দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত হন।
দুই সন্তানের মা ড. শাহবাজি কেমব্রিজের এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজিতে (এলএমবি) গবেষকদের একটি দলের নেতৃত্ব দিতেন এবং সেখানে অ্যাফিলিয়েট অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ছিলেন। মানব ভ্রূণ ও কোষ জীববিজ্ঞান নিয়ে কাজের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।
এলএমবি এক বিবৃতিতে তাঁকে ‘অনুপ্রেরণাদায়ী, প্রতিভাবান ও আবেগী বিজ্ঞানী’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, তাঁর মৃত্যু ‘গভীর ধাক্কা ও বিশাল ক্ষতি’।
কোষ জীববিজ্ঞানের এই বিশেষজ্ঞ এলএমবিতে শাহবাজি ল্যাবরেটরি পরিচালনা করতেন; গবেষণাগারটি কেমব্রিজ বায়োমেডিকেল ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
প্রাথমিক মানব বিকাশ গবেষণায় অবদানের জন্য তাঁকে স্প্যানিশ সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজির পুরস্কারের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। আন্দালুসিয়ার এল রোম্পিদোতে একটি সম্মেলনে তিনি সেই পুরস্কারটি সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন।
এলএমবি বলেছে, স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে মার্তা পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য নিয়ে সাবলীলভাবে লিখতেন এবং ‘মাদার সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে তিনি ছিলেন অনেকের কাছে আদর্শ—এই শব্দটিই তিনি নিজেকে বর্ণনা করতে ব্যবহার করতেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘মার্তা ছিলেন অনুপ্রেরণাদায়ী, প্রতিভাবান ও আবেগী বিজ্ঞানী, যাঁর গবেষণা মানব ভ্রূণের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক ধাপগুলো এবং গর্ভাবস্থা ব্যর্থ হওয়ার মতো ত্রুটি কীভাবে ঘটে, তা নিয়ে আলোকপাত করেছিল।’ তাঁর কাজ ‘অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা’ পেয়েছিল বলেও যোগ করেছে গবেষণাগারটি। শাহবাজি ২০২০ সালে কেমব্রিজ গবেষণাগারটিতে যোগ দেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শাহবাজিকে স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের (সিএসসিআই) প্রধান গবেষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বার্টি গটগেনস বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানটির সবাই ‘হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত’। তিনি বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানেই মার্তা প্রাথমিক মানব বিকাশ নিয়ে অগ্রণী গবেষণার জন্য অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং সহযোগিতার মনোভাবের জন্য মূল্যায়িত হতেন; তাঁর সৃজনশীলতা, আবেগ ও উদারতা গভীরভাবে অনুভূত হবে না এমন নয়।
তাঁর মৃত্যুর খবরটি প্রথম নিশ্চিত করা হয় সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলাভিত্তিক সিমুসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে; সেখানে শাহবাজির খালা কাজ করেন। শাহবাজি স্প্যানিশ ন্যাশনাল ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার থেকে পিএইচডি করেন, এরপর পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ২০২০ সালে এলএমবিতে আসেন।
স্পেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন রাষ্ট্রায়ত্ত রেনফে পরিচালিত একটি উচ্চগতির ট্রেন ইরিও কোম্পানির পরিচালিত একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এটিকে আধুনিক ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল বিপর্যয়গুলোর একটি এবং ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলা হচ্ছে। দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি ট্রেনে মোট ৫৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন।




