খুলনায় ১৬ ঘণ্টায় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ, ছুরিকাঘাতে আহত রংমিস্ত্রি

খুলনায় মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক রংমিস্ত্রি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা ঘটেছে নগরী ও আশপাশের এলাকায়। গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে খুলনা নগরীর নিরালা এলাকার ১৭ নম্বর রোডে সালমান (২৩) নামে এক যুবককে গুলি করে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। সালমান একটি সিগারেট কোম্পানির কর্মচারী। তিনি ১৬ নম্বর রোডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিগারেট কোম্পানির অফিসের সামনে কাজ করার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ব্যাগে টাকা রয়েছে—এমন ধারণা থেকে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন সালমানকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সোহেল শেখ (৩৬)। তিনি বড় কড়িয়া এলাকার গনি শেখের ছেলে। সোহেল আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল মোটরসাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। হামলার পরপরই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সার্জারি বিভাগের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বটিয়াঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার পাশের একটি গলিতে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন রাসেল (৩২) নামে এক রংমিস্ত্রি। পথরোধ করে ৬ থেকে ৭ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করে নগদ ৬০০ টাকা ও একটি ভিভো ভি-২০ মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাসেল লবণচরা থানাধীন পুটিমারি রেলব্রিজ এলাকার বাসিন্দা, তার বাবার নাম আবুল কালাম শেখ। আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, এভাবে খুলনা চলতে পারে না। নগরী তার বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। সন্ত্রাস দমনে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।



