নাটোরের গুরুদাসপুরে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন

নাটোরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার খামার নাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল। দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছিল। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা করেছিলেন তাঁর বাবা রবিউল করিম।
শাকিলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ ও গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান। ইসরাফিল শেখ বলেন, দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই শাকিলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল। হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শাকিল বলেছিলেন, চাঁচকৈড় বাজার থেকে রাত নয়টার দিকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাজারপাড়া এলাকার নুর একাডেমির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি থেকে বাঁচতে তিনি দৌড় দেন।
শাকিল বলেছিলেন, গুলি গায়ে না লাগায় দুর্বৃত্তরা তাঁর পেছনে ধাওয়া করে। পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে এলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার আগেই মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান জানান, বাজারপাড়ার শহীদা জলিল স্কুলের কাছে পর পর দুটি গুলির শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এগিয়ে যেতেই শাকিলকে দৌড়ে চলে যেতে দেখেন। পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে দুই ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পর রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ফিরতে দেখেন তিনি। পরে শহীদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে চিৎকার করছিলেন শাকিল। তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নওশিন জাহান বলেন, গুরুতর অবস্থায় শাকিলকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ বলেন, হামলার রাতেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে শাকিলকে অন্তত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের পর অবস্থার অবনতি হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর কিডনি কাজ করছিল না। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়। আইসিইউতে রাখার পর লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, নিহত শাকিলের বাবার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি, তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পুলিশ বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অপরাধীরা গ্রেফতার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




