মোহাম্মদপুরে ত্রাস সৃষ্টির মামলায় ৪৮ ঘণ্টায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আরও অভিযান চলছে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. পলাশ (২৮) ও তোতা মিয়া ওরফে রাব্বি (২২)।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার ও বোটঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
এসআরবি-২-এর উপপরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রুপটির সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করছিল। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখাই ছিল এই তৎপরতার উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
মেজর তাপস জানান, গত ২৩ অক্টোবর মিঠু মিয়া (২০) নামে ওই গ্রুপের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাদী হয়ে মিঠু মিয়াসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলার সূত্র ধরেই পরের ৪৮ ঘণ্টায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এসআরবি-২ জানায়, গ্রেপ্তার তোতা মিয়া ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় অবৈধ বাধা, দাঙ্গা, গুরুতর আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যাচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে পলাশের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দস্যুতা, গুরুতর আঘাত ও হত্যার অভিযোগে দুটি মামলা এবং হাজারীবাগ থানায় একটি নন-এফআইআর সাধারণ ডায়েরি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধেই আগের একাধিক অভিযোগ ছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গ্রুপটির বাকি সদস্যদের ধরতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে।
মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত তৎপরতা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে আসছে। টানা অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা।
তবে অভিযান কত দিন চলবে এবং পলাতক আসামিদের কবে গ্রেপ্তার করা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, গ্রুপটির সব সদস্যকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত অভিযান থামবে না।



