…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহিরুল হত্যা: ছাত্রদল নেতা রিজভীকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলামকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন।

গত বুধবার রাতে সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জহিরুলের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

নিহত জহিরুল ইসলাম আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি চালাতেন তিনি। গ্রামের বাড়ি থেকে দূরে থেকে ব্যবসা চালালেও এলাকার রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা ছিল বলেই মামলার বিবরণে উঠে এসেছে।

মামলার এজাহারে জহিরুলের ভাগনে ইসমাইল অভিযোগ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর মামা ফকির জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

এই হত্যার পেছনে আগের বিরোধের ইতিহাসও এজাহারে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে জহিরুলের ওপর রিজভী ও তাঁর লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, আগের ওই মামলার আসামিদের পাশাপাশি অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরাও তাঁর মামাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে ব্যবসা করতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। এতে রিজভীসহ আসামিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার রাত আটটার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত সাড়ে আটটার দিকে চর হোগলা এলাকার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছে একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে রিজভীর নেতৃত্বে ২১ জন এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। তাঁদের হাতে চাপাতি, রামদা, ছুরি, দা, লোহার রড, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে বাদীর অভিযোগ।

বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা জহিরুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান। নির্জন কাঁচা রাস্তায় ঘটে যাওয়া এই হামলার পর জহিরুল সেখানেই পড়ে ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, এক পথচারী জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে রাত পৌনে নয়টার দিকে ইসমাইল হোসেনকে ফোন করে হামলার খবর দেন। পরে ইসমাইলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত জহিরুলকে অটোরিকশায় করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে জহিরুল ইসলাম হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম এবং তাঁদের আঘাতের বিবরণ জানান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত জহিরুলের এক স্বজন অভিযোগ করেন, এজাহার থেকে ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসাইনের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সময় হলে সবকিছু বলবেন। এই অভিযোগ মামলাটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে, কারণ মূল বিরোধের কেন্দ্রে থাকা নামটি এজাহারে নেই বলেই স্বজনদের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেছেন, যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এখন তদন্তে এজাহারের অভিযোগ, আগের মামলার ইতিহাস ও হত্যার আগের হুমকির বিষয়গুলো কতটা প্রমাণিত হয় এবং পলাতক আসামিরা কবে ধরা পড়েন, সেদিকেই সবার নজর থাকবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর

আইন ও অপরাধ

মোহাম্মদপুরে ত্রাস সৃষ্টির মামলায় ৪৮ ঘণ্টায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আরও অভিযান চলছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. পলাশ (২৮…

আইন ও অপরাধ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই হাজতির মৃত্যু, হাসপাতালে স্বজনদের হট্টগোল

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৃথক ঘটনায় দুই হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; অপরজন ডেঙ্গু জ্বর…

আইন ও অপরাধ

সাঈদীর মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা, গার্ড অব অনারের পর মরদেহ পুলিশ লাইনসে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া বী…

আইন ও অপরাধ

খুলনায় এক দিনে তিন গুলি-হামলা: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় দোকানি গুলিবিদ্ধ, রাতে সন্ধানী ক্লিনিকে ভাঙচুর

খুলনায় এক দিনেই তিনটি গুলি ও হামলার ঘটনায় পুরো নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে তেরখাদায় যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাসকে, সন্ধ্যায় দক্ষিণ টুটপ…