…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

এক মাসের অভিযানে বদলে গেছে রাতের কুমিল্লা: কিশোর গ্যাংয়ের দাপট কমলেও পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে শঙ্কা কাটেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাত দেড়টায় কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার টাউন হল মাঠের চারপাশে এখন সুনসান নীরবতা। মাসখানেক আগেও এখানে কিশোর-তরুণদের জটলা লেগে থাকত, প্রকাশ্যে বসত মাদকের আসর; গাঁজার তীব্র গন্ধ আর বিকট শব্দে মোটরসাইকেলের ছোটাছুটি ছিল রাতের পরিচিত দৃশ্য। সেই দৃশ্য বদলেছে—এখন গভীর রাতেও মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছে।

টাউন হল মাঠ থেকে কিছুটা দূরে সার্কিট হাউস মোড়ের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। সন্ধ্যার পর মাঠের বিভিন্ন স্থানে বসত কিশোর-তরুণদের মাদকের আড্ডা, রাত বাড়ার সঙ্গে জটলাও বাড়ত। এখন সেখানে আগের দৃশ্য চোখে পড়ছে না।

একইভাবে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে দল বেঁধে ছোটাছুটি, প্রকাশ্যে মাদকসেবন আর রাতভর আড্ডার দৃশ্য অনেকটাই কমেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

এক মাস ধরে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের কারণে নগরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে অপরাধ দমনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই অভিযানের সূত্রপাত একটি মর্মান্তিক ঘটনা থেকে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশি তদন্ত ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই দিন রাত থেকে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক মাসের অভিযানে তিন হাজার ৪১২ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই হাজার ৩৮৬ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি এক হাজার ২৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে নগরের আলোচিত কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতারাও গ্রেপ্তার হন; তালিকায় ‘আর স্কোয়াড’ বা ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনও আছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ধারাবাহিক অভিযানের পর রাতের জটলা ও মাদকসেবন অনেকটাই কমেছে। কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও পুলিশ সহযোগিতা পাচ্ছে। বিষয়টিকে পুলিশের দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে পরিণত করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, এক মাসের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তবে এটিকে অপরাধ নির্মূলের চূড়ান্ত পর্যায় মনে করছে না পুলিশ; নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবর্তনের ছবি সাধারণ মানুষের কথাতেও মিলছে। চকবাজার এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে রাতে গাড়ি চালান; কয়েকবার ছেলেপুলেরা তাঁকে ধরে সব নিয়ে গেছে, মাসখানেক আগেও রাতের গলিতে যেতে ভয় পেতেন। এখন আর ভয় লাগে না; তাঁর ভাষায়, খারাপ ছেলেরা সব জেলের ভেতরে, পুলিশ এই একটা ভালো কাজ করেছে। টাউন হল মাঠের চা-দোকানি এরশাদ মিয়া দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাতে সেখানে চা-সিগারেট বিক্রি করেন; তিনি বলেন, আগে সারা রাত ছেলেদের ভিড় থাকত, এখন বেচাকেনা কমলেও রাতে বিক্রি করতে ভয় লাগে না, গাঁজার গন্ধ পান না—এটাই ভালো লাগে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকেই এমন তৎপরতা দেখালে গ্যাংগুলো এত বিস্তারের সুযোগ পেত না। তাঁর মতে, আগের তুলনায় গত এক মাসে নগরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমেছে; এখন এই পরিবর্তন কত দিন থাকে, সেটাই দেখার বিষয়। এটাকে ধরে রাখতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয় কিশোর গ্যাং বিস্তারের অন্যতম কারণ; রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কিছু লোক পেশিশক্তি বাড়াতে গ্যাংগুলো ব্যবহার করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানও বলেছেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে বড় ভাই বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে; যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে না, যাচাই-বাছাই করে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যার পর সন্তানদের গতিবিধির খোঁজ রাখতে এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর

আইন ও অপরাধ

মগবাজারে ভোরে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না শিল্পী

রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোরে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে …

আইন ও অপরাধ

নদীপথে বাড়ছে হত্যা, ডাকাতি আর চাঁদাবাজি: অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার নৌ পুলিশও, দুই বছরে মামলা প্রায় ছয় হাজার

মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হচ্ছে নৌশ্রমিকদের। পণ্যবাহী নৌযান থেকে লু…

আইন ও অপরাধ

মোবাইল ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় স্কুলছাত্র অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা: চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়—তদন্ত শেষে এমন অভিযোগ…

আইন ও অপরাধ

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় এক দিনের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৮৬, কিশোর গ্যাং অভিযানে আটক ৪৭৪

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী …