জামায়াত ভিন্ন পথে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে, বললেন মাদারীপুরের এমপি খোকন তালুকদার
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, জামায়াত ভিন্ন পথে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় আসার সুযোগ গত ২৬ সালের নির্বাচনেই তারা হারিয়ে ফেলেছে।
শুক্রবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার এসি নর্থ কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খোকন তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ কোটি মানুষকে কীভাবে ভালো রাখা যায়, সেই চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, সরকারের লক্ষ্য মানুষকে ভালো রাখা, শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে চায়, সেজন্য তারা যেকোনো পন্থায় হোক তাদের ক্ষমতা দরকার। এর বিপরীতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের ক্ষমতা নয়, এই বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে রাখা দরকার।
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর মন্তব্যে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক তৎপরতাকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক হিসেবে চিত্রিত করেছেন এবং নির্বাচনের রায়কেই ক্ষমতায় আসার একমাত্র পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ ও অজয় কৃষ্ণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা ঘিরে আয়োজিত এই পুনর্মিলনীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা একত্রিত হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় প্রসঙ্গের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির বিষয়ও উঠে আসে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেই তিনি জামায়াত প্রসঙ্গে তাঁর দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে শান্তিতে রাখাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ক্ষমতার জন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বনের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি শান্তি ও স্থিতির পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মাদারীপুর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্যের মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
দিনের অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিদায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে সময় কাটান এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানা গেছে।






