তিন মাসের মধ্যে একনেকে উঠতে পারে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন প্রকল্প: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তাঁর এই ঘোষণায় দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা নতুন করে জোরালো হলো।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলের হলরুমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পর্যটনকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানেই উঠে আসে অঞ্চলটির যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রশ্নটি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে কুয়াকাটাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে পরিবর্তন আসবে। সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হলেও সড়কপথের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই ভ্রমণকারী ও স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়।
শুধু ভাঙ্গা-বরিশাল অংশই নয়, বরিশাল-কুয়াকাটা সড়ক চার লেন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দুটি অংশই বাস্তবায়িত হলে রাজধানী থেকে দক্ষিণের উপকূল পর্যন্ত যাত্রা অনেক সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সব কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গ্রহণ করছে। তাঁর ভাষায়, পরিকল্পনাভিত্তিক এই পদ্ধতির ফলে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসাই এই নীতির লক্ষ্য বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। পর্যটন খাতের নীতিনির্ধারকের উপস্থিতিতে যোগাযোগ প্রকল্পের ঘোষণা আসায় দুই খাতের সমন্বিত উন্নয়নের বার্তাই পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের উপস্থিতি প্রকল্পটির গুরুত্বই তুলে ধরে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চার লেন সড়কের দাবি নতুন নয়। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত পথটি অঞ্চলটির অর্থনীতি, পর্যটন ও দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান ধমনী। এই পথ আধুনিকায়ন হলে পুরো উপকূলীয় জনপদের জীবনযাত্রায় তার প্রভাব পড়বে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সময়সীমা হিসেবে আগামী তিন মাসের কথা এসেছে, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেকের টেবিলে ওঠার কথা। একনেকের অনুমোদন মিললেই প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে।
এখন সবার নজর থাকবে আগামী তিন মাসের দিকে—প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সত্যিই একনেকে ওঠে কি না, আর উঠলে অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, সেটাই হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আসল পরীক্ষা।






