‘কার সঙ্গে কার আঁতাত ছিল, জাতি জানে’ — লক্ষ্মীপুরে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণে বললেন মন্ত্রী এ্যানি
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ২৮ অক্টোবরসহ বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, ‘কার সঙ্গে কার আঁতাত ছিল, তা জাতি জানে।’ লক্ষ্মীপুরে প্রান্তিক নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের তোতারখিল আয়েশা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়। লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
বক্তব্যে এ্যানি চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধী দলের ছাত্রসংগঠন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গুপ্ত ছিল, তারা ছাত্রলীগ করতো। কার সঙ্গে কার আঁতাত ছিল, তা জাতি জানে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে কার সঙ্গে কার আঁতাত ছিল, সবাই তা জানে। ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে মিলে তারা ১৭৩ দিন হরতাল-অবরোধ করেনি।’
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এলো। কোন দল কখন কার সঙ্গে সমঝোতা করেছে, আন্দোলনের সময় কে কোথায় ছিল — এসব প্রশ্ন তিনি প্রকাশ্য বক্তব্যে তোলেন।
অনুষ্ঠানের মূল অংশে দত্তপাড়া ইউনিয়নের প্রান্তিক, অসহায় ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আয় করার সুযোগ তৈরি এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব কামরুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা এবং চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব।
উপস্থিতদের মধ্যে আরও ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থা লক্ষ্মীপুরের জেলা কর্মকর্তা আনোয়ার পাশা, চিকিৎসক ডা. বি কে দাস বিজয়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান লিঠনসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
লাইফলাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি শিক্ষা, পরিবেশ, শিশুর বিকাশ, সামাজিক উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
রাজনৈতিক বক্তব্য আর সামাজিক উদ্যোগ — দুটোই এই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে এসেছে। একদিকে আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা, অন্যদিকে প্রান্তিক নারীদের আয়ের পথ তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে আয়োজক সংগঠন।






