…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ‘ট্রাম্প কার্ড’ ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোট: জয়ের হিসাব ঘুরছে এক প্রশ্নে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নানা সমীকরণ। স্থানীয়দের মতে, এই উপনির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি বা ‘ট্রাম্প কার্ড’ লুকিয়ে আছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোটারের হাতে।

ভোটের সমীকরণে হিন্দু ভোটাররা কেন ‘কিংমেকার’? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটার, যা মোট ভোটের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন।

অতীতের নির্বাচনি হিসাব বলছে, এই এলাকার হিন্দুরা একক কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। এই আসনে যিনিই জয়ী হন না কেন, হিন্দু ভোটারদের সমর্থন ছাড়া বিজয়ের মুখ দেখা অসম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষেরা। ঐতিহাসিকভাবে এই বিশাল ভোটারগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

তবে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে চিত্রটি ছিল ভিন্ন। সেসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মূলত এই বিশাল হিন্দু ভোটব্যাংকের ওপর ভর করেই বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে স্থানীয় আলোচনায় বলা হয়। সেসময় হিন্দুদের প্রায় শতভাগ ভোট ধানের শীষে পড়েছিল। সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুলের প্রতি স্থানীয় হিন্দুদের আস্থা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল, যা গত নির্বাচনে প্রায় শতভাগ ভোটে রূপ নিয়েছিল।

এবার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এবার মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের জন্য সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করাই প্রধান পরীক্ষা। ফয়সল আমীনের পক্ষে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় দিনরাত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, ঠাকুরগাঁওয়ে সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকেছে।

হিন্দু ভোটব্যাংক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আমীন বলেন, হিন্দু ভোটাররা এখন আর আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকে নেই। ঠাকুরগাঁওয়ের হিন্দু সম্প্রদায় ইতিমধ্যে বিএনপির ওপর আস্থা রেখে তার ভালো প্রতিফলন পেয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা বিএনপির পাশেই থাকবে। পথসভা ও মতবিনিময় সভাগুলোতে বিএনপির নেতারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, এলাকার প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল অগ্রাধিকার। গত জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারও হিন্দু ভোটাররা ধানের শীষেই আস্থা রাখবেন — এমনটাই প্রত্যাশা বিএনপির।

অন্যদিকে, উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। অতীতের সমীকরণ বদলে দিয়ে হিন্দু ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে তারা নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি কড়া নজর রেখে কৌশলগত প্রচার চালাচ্ছেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে হিন্দুদের ঘরে ঘরে গিয়ে সরাসরি বলা হচ্ছে, বিজয়ী হলে এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। সব সম্প্রদায়ের জানমালের শতভাগ নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে তারা হিন্দু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

১১ দলের মনোনীত জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মনে করেন, এবার হিন্দু ভোটাররা তাকেই পছন্দের তালিকায় রাখছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আমি হিন্দু সমাজের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করেছি। তাদের বোঝার চেষ্টা করেছি। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তারা আমাকেই ভোট দেবেন এমনটি বিশ্বাস করি।’

তবে ভোটারদের একটি অংশ বলছে, এবারের হিসাব আগের মতো সরল নয়। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, বিগত নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের হিন্দুরা একতাবদ্ধ হয়ে একজন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। তবে এবারও সেই ধারা অব্যাহত রেখে নির্দিষ্ট দলের দিকেই ঝুঁকবে — এমনটা ভাবা ভুল হবে। তাঁর ভাষায়, হিন্দু সমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন; নির্দিষ্ট দলের দিকে না গিয়ে এখন তারা প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার আকচা এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ভেবেচিন্তে একটি নির্দিষ্ট দিকে এগবো। আগে যেমন আমাদের কিছু চাওয়া ছিল, এবারও আছে। আমাদের মূল চাওয়া শান্তিতে বসবাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা। যে দল ও প্রার্থী আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের আস্থা দিতে পারবে, আমরা তাকেই বেছে নেব।’ এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, নিরাপত্তার প্রশ্নটিই এবার হিন্দু ভোটারদের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।

এই উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন মোট ৫ জন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী পেয়েছেন বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ডাব প্রতীক।

ভোটের প্রস্তুতির তথ্যও জানা গেছে। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চলবে আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত। এরপর প্রচারের কোলাহল থেমে গেলে ভোটাররাই হবেন শেষ কথা।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কারো পক্ষ থেকে বড় কোনো অভিযোগ পাইনি।’ তিনি জানান, উপনির্বাচনে এবার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১-এর লড়াই এখন একটি প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় — ১ লাখ ৪০ হাজার হিন্দু ভোটার এবার কোন দিকে ঝুঁকবেন? বিএনপি চাইছে ফখরুলের উত্তরাধিকার ধরে রাখতে, জামায়াত চাইছে নিরাপত্তার বার্তায় সেই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে, আর ভোটাররা বলছেন তারা দেখছেন প্রার্থীর যোগ্যতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ২৯ অক্টোবরের ফলই বলে দেবে, ‘ট্রাম্প কার্ড’ শেষ পর্যন্ত কার হাতে গেল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ: আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিস-পাটওয়ারী-আসিফ

পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে …

রাজনীতি

‘বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়ে এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করুন’: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

নির্বাচনের সময় বেহেশতের প্রতিশ্রুতির কথা বলে ভোট নেওয়ার পর এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রত…

রাজনীতি

ঝালকাঠিতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে এনসিপির কার্যালয়, চলছে আলোচনা

ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারের মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ক…

রাজনীতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: ১৭ বছরে সুষ্ঠু ভোট হয়নি, বললেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তার মন্…