এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ: আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিস-পাটওয়ারী-আসিফ
পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন আগের মতোই রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে দলটির শীর্ষ কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে দলের দপ্তর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি এনসিপির ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে এসেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলম। এই চার নেতার আগের পদগুলো — মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র — বিলুপ্ত করে নতুন এই পদগুলোতে তাঁদের বসানো হয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু থেকে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন; আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক পদে। নতুন কমিটিতে দুজনেই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় তাঁদের অবস্থান আহ্বায়ক-সদস্যসচিবের ঠিক পরের সারিতে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদ দেওয়া হয়েছে। নতুন পুনর্গঠিত কমিটিতে সারজিস ও আসিফ অন্যদের তুলনায় দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে সামান্তা শারমিনের ক্ষেত্রে। সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সামান্তা শারমিন শুরুতে ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক; এখন তিনি শুধুই যুগ্ম আহ্বায়ক।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার কারণে সামান্তা শারমিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁর পদাবনতি সেই প্রেক্ষাপটের সঙ্গেই যুক্ত বলে মনে করছেন দলটির ভেতরের অনেকে।
প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরে জাতীয় সম্মেলন করতে না পারলেও শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে পরিবর্তন এনেছে দলটি। সম্মেলন ছাড়াই আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত দলটির সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন কাঠামোতে পদগুলোর নাম ও স্তর বদলে যাওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার প্রভাব কতটা থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখ্য সংগঠকের মতো পরিচিত পদ বিলুপ্ত করে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব কাঠামোয় যাওয়া মূলধারার দলগুলোর কমিটি কাঠামোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের পুনর্বহাল থাকা থেকে স্পষ্ট, শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা রাখতেই চেয়েছে দলটি। পরিবর্তন এসেছে মূলত দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের বিন্যাসে — কে কার ওপরে থাকবেন, সেই ক্রমই নতুন করে সাজানো হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নেতাদের দল হিসেবে এনসিপির প্রতিটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক অঙ্গনে মনোযোগ পায়। পুনর্গঠিত কমিটির এই তালিকাও শুক্রবার প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, পুনর্গঠিত এই কমিটি দলকে জাতীয় সম্মেলনের দিকে নিয়ে যেতে পারে কি না এবং নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতারা সাংগঠনিক কাজে কতটা গতি আনতে পারেন। তালিকা প্রকাশের পর দলের পরবর্তী কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।






