‘ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদের উৎসবের মতো’: জামায়াত নেতা আব্দুল হালিম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে উৎসবমুখর ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেছেন, ‘এক ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য বাংলাদেশকে অগ্নিগর্ভ করবেন না। এক মাগুরার কারণে কেয়ারটেকার সরকার মানতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন সরকার। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কে জিতল বা হারল—তাতে সরকারের পতন হবে না, বিরোধী দলেরও মহাবিপদ হবে না। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনকে কোনোভাবেই মাগুরা দেখতে চাই না।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভার মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাঠে জামায়াত কর্মীদের অব্যাহত হুমকি ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়ায় তাদের প্রার্থীকে গণসংযোগ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ওয়ার্ডেই বিএনপির দুই নেতা ফরহাদ ও দুলাল জামায়াতের নারী-পুরুষ কর্মীদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিএনপির লোকেরা একজন নারী কর্মীকে তাঁর বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। উনারা মুখে নারী অধিকারের কথা বলেন, কিন্তু জামায়াতের নারীরা যখন দলবদ্ধভাবে ভোটের কাজ করেন, তখন আর নারী অধিকার থাকে না—উনারা ‘জামাতি’ হয়ে যান।’ তিনি বলেন, জামায়াতের নারীদের মধ্যেও এখন ভোট ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে।
জামায়াত নেতার অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে রুহিয়া উপজেলার আখানগরের ঘটনা। তাঁর দাবি, সেখানে নির্বাচনী সমাবেশ শেষে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং কর্মীদের আঘাত করেন; এমনকি তাদের থানা আমিরকেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রহিমাপুরের কৃষ্ণপুরে সমাবেশ চলাকালে ভয়ভীতি দেখানোয় সাধারণ নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তোষও প্রকাশ করেছেন। ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব। এ পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোও গুরুত্বসহকারে নোটে নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
আব্দুল হালিম বলেন, ‘এখানে সরকারি দল জিতল না বিরোধী দল জিতল—সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা দেখতে চাই, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন যেন তার এক নতুন ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাগুরা মার্কা নির্বাচন চাই না, ঈদের মতো উৎসব চাই।’
পাঁচজন প্রার্থীর সবার কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, সকলে মিলে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি ‘ঈদের উৎসব’ উদ্যাপন করি। জনগণের রায় যার পক্ষেই যাক, আমরা মেনে নেব।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচন মনে করে আগের আনন্দের কথা ভুলে যাবেন না। ভয়ডর ভুলে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসুন, যাকে খুশি তাকে ভোট দিন। আমরা সবাই মিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি উজ্জ্বল ও সুন্দর দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
অন্যদিকে, একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনও ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমপি হলে প্রথমেই খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করবেন এবং ভোটারদের ভোটে জয়যুক্ত হয়ে সংসদে যেতে চান।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে প্রচার যেমন জমে উঠেছে, তেমনি পাল্টাপাল্টি অভিযোগও বাড়ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘মাগুরার পুনরাবৃত্তি নয়, উৎসবের নির্বাচন’—এই বার্তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ভোটের দিন মাঠের পরিস্থিতিই বলে দেবে, সেই আহ্বান কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।






