ক্যান্টন ফেয়ারে এআই পণ্যের চমক, আড়াই লাখের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পণ্য
চীনের কুয়াংচৌ শহরে জাঁকজমকভাবে চলছে বিশ্বখ্যাত ‘ক্যান্টন ফেয়ার’-এর ১৪০তম আসর। তিন ধাপে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। শনিবার ছিল মেলার তৃতীয় দিন। এবারের মেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত নতুন নতুন পণ্যের বিশেষ প্রদর্শনী সবাইকে চমকে দিয়েছে।
আধুনিক এসব প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য চীনের বিশ্ব বাণিজ্য ও রপ্তানি বাড়াতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তির স্মারক হিসেবে আয়োজিত এবারের মেলায় ২ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি এআইচালিত পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ২০ হাজারের বেশি প্রদর্শক সংস্থা তাদের উদ্ভাবনে নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছে। এআই পণ্যের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে এবার এই প্রযুক্তিই।
ক্যান্টন ফেয়ারে প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলো মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তৃতীয়বারের মতো মেলায় আসা ম্যাক্স ইয়ং এবার সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর অসুস্থ মাকে। বাণিজ্য মেলার ব্যস্ত পরিবেশ উপভোগ করতে এসে তাঁরা এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন—মেলায় মিলে যায় একটি উন্নত ‘এক্সোস্কেলেটন রোবোটিক ডিভাইস’-এর সন্ধান।
স্ট্রোক করার পর থেকে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া তাঁর মা সুজান এলিয়ট এই রোবোটিক ডিভাইসের সহায়তায় নিজে থেকে দাঁড়াতে এবং হাঁটতে সক্ষম হন। আবেগাপ্লুত হয়ে সুজান বলেন, ‘এটি আমার পা দুটিকে সচল রাখছে। সত্যি এটি দারুণ।’
এই একটি ঘটনাই বুঝিয়ে দেয়, এবারের মেলার প্রযুক্তি শুধু প্রদর্শনীর টেবিলে সীমাবদ্ধ নয়—তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধানেও সরাসরি কাজে লাগছে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে নানা খাতের পণ্যে এআইয়ের ব্যবহার এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।
চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল ‘থার্মোমিটার’ হিসেবে বিবেচিত এই প্রদর্শনী উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশেষায়িত পণ্য ও উন্নত গুণমানের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। ফলে বিশ্বের ক্রেতাদের কাছে মেলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
একই স্থান থেকে সুবিধাজনক ও দক্ষতার সঙ্গে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য সংগ্রহের এক অনন্য বিশ্বমঞ্চ হিসেবে ক্যান্টন ফেয়ার নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। তিন ধাপের এই আয়োজন ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলায় বাকি দিনগুলোতে আরও নতুন পণ্য ও ব্যবসায়িক চুক্তির দিকে নজর থাকবে সবার।





