সংসার চালাতে ঋণ করতে হয়েছে দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবারকে
সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে ঋণ করতে হয়েছে দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবারকে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি দুটি পরিবারের একটি পরিবারকেই দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ধারদেনার আশ্রয় নিতে হয়েছে—এই চিত্র দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপের গভীরতাই তুলে ধরছে।
পরিবারের আয় দিয়ে সংসারের খরচ না মিটলেই মানুষ ঋণের দিকে ঝোঁকেন। খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা ও বাসাভাড়ার মতো জরুরি খরচ মেটাতেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ঋণ নেওয়া হয়।
৪৭ শতাংশের এই হার ছোট কোনো সংখ্যা নয়। এর মানে, ঋণ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সমস্যা নয়, বরং সমাজের প্রায় অর্ধেক পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঋণ করে সংসার চালানোর প্রবণতা বাড়লে পরিবারগুলোর ওপর সুদ ও কিস্তির বোঝাও বাড়ে। এক ঋণ শোধ করতে গিয়ে আরেক ঋণ নেওয়ার চক্রে আটকে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় না বাড়লে এই চাপ কমার সুযোগ কম। সংসার চালাতে ঋণ নেওয়ার এই পরিসংখ্যান তাই শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং সাধারণ পরিবারগুলোর টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মানুষের প্রকৃত আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং জরুরি খরচের চাপ কমানোই মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নইলে ঋণের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
আগামী দিনে এই হার কোন দিকে যায়, তার ওপর নজর থাকবে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের। পরিবারের ঋণের বোঝা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে সংসার চালানোর এই লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।




