ফ্রান্সে পুলিশের ওপর পেট্রোল বোমা, হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু; ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা

ফ্রান্সে দাঙ্গা পুলিশের ওপর পেট্রোল বোমা ছোড়ার ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার তদন্ত শুরু করেছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। শিক্ষা ব্যবস্থা, অবনতিশীল জনসেবা, কমতে থাকা সম্ভাবনা, বাসস্থানের ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে এই শরতে বেশ কয়েকটি দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছে।
শনিবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, গ্রেনোবল, বোর্দো, লিয়ঁ ও তুলুজে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমেছিলেন, যাদের কেউ কেউ হ্যালোইন পোশাক পরেছিলেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর মুখোশ ও হুড পরা দাঙ্গাকারীরা এসে সহিংসতা শুরু করে, যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ অসাধারণ মাত্রার সহিংসতা বলে বর্ণনা করেছেন। ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্যারিসে প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রায় ১৫ জন জেন্ডার্ম ও পুলিশ কর্মকর্তার একটি দলের দিকে আগ্নেয় যন্ত্র ছোড়া হয়। জনক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া ক্ষতও রয়েছে। ঘটনাটি মুঠোফোন ভিডিওতে ধারণ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ফরাসি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
তবে শারীরিক সহিংসতা ও লুটপাটের মাত্রা ১৭ অক্টোবরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সেদিন ২ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ৩ হাজার পর্যন্ত দোকান লুট হয়েছিল, যা ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ নগর অস্থিরতার রাতগুলোর একটি ছিল।
জার্মানিতে লুটেরা ও দাঙ্গাকারীরা ফ্রাঙ্কফুর্টে তাণ্ডব চালায়, দোকান ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ১০০ জনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোবরিন্ডট কঠোর শাস্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঙ্গাকারী ও লুটেরাদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
শনিবার জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে ১ লাখের বেশি বিক্ষোভকারী ভালো শিক্ষা ও কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের দাবিতে মিছিল করেন। এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় জেন জি রেগেল্ট প্রচারণা। ফ্রাঙ্কফুর্টে হুড পরা দাঙ্গাকারীরা ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার পাঁচটি লুট হয়, এবং পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে বলে হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানান। শহরে মোতায়েন ১ হাজার ৩০০ পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে ১০০ জনের বেশি আহত হন এবং ১৩ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৫৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোলোনে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং বার্লিনে বিক্ষোভকারীরা বোতল ও আতশবাজি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। জেন জি রেগেল্ট সব ধরনের সহিংসতা থেকে নিজেদের দূরে রাখার বিবৃতি দিয়েছে।
পর্তুগালে রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে দাঙ্গা পুলিশ লিসবনের রোসিও স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীদের জোর করে সরিয়ে দেয়। আবাসন সংকটে ক্ষুব্ধ হাজার হাজার মানুষ শনিবার শহরে মিছিল করে সেখানে শিবির স্থাপন করেছিলেন। পোর্তোতেও একটি ছোট শিবির জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের পাশাপাশি মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও আগুনের বোমা ছোড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে ৩৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০০ জন পুলিশ, এবং ২৬৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে শনিবার রাতে জুরিখ ও বাসেলে অননুমোদিত বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। জুরিখে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। বাসেলে প্রায় ১৫০ জন শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।


