দাস ব্যবসার জন্য ব্রিটেনের ক্ষমা চাওয়া উচিত নয়, কমনওয়েলথ সম্মেলন ঘিরে বললেন কনজারভেটিভ নেতা বাডেনক

আটলান্টিক মহাসাগরপারের দাস ব্যবসায় ব্রিটেনের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া হলে তা হবে ‘আত্মমগ্ন বিভ্রান্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনক। তিনি দাসপ্রথাকে এমন এক মন্দ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাতে ‘প্রতিটি মহাদেশ ও অঞ্চলের মানুষই অংশ নিয়েছিল’।
রবিবার সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাডেনক প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতের নেতাদের কমনওয়েলথ সম্মেলনে যাওয়া আদৌ সার্থক কি না, কারণ তাঁর ভাষায় সম্মেলনটি এখন ক্ষতিপূরণের দাবিতেই আচ্ছন্ন। আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (চগম) যাওয়ার আগে অ্যান্ডি বার্নহাম আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পরই বাডেনকের এই মন্তব্য এল।
দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে বার্নহাম বলেছেন, আর্থিক ক্ষতিপূরণের আকারে প্রতিদান দেওয়া হবে না; তবে দরিদ্র দেশগুলোকে অনুকূল শর্তে ঋণ পুনর্গঠনে সহায়তা করতে তিনি প্রস্তুত আছেন।
বাডেনক বলেন, নেতাদের উচিত পুরো ইতিহাস নিয়েই সৎ থাকা, ‘আজ রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অংশগুলো বেছে নেওয়া’ নয়—বিশেষ করে আটলান্টিকপারের দাস ব্যবসা বন্ধে ব্রিটেনের অগ্রণী ভূমিকার কথা মনে রেখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ক্যারিবীয় দেশগুলো যদি আটলান্টিকপারের দাস ব্যবসায় ব্রিটেনের ভূমিকার জন্য ব্রিটেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চায়, তাহলে যেসব আফ্রিকান রাজ্য, শাসক ও বণিক এই ব্যবসায় মানুষ ধরে এনে বিক্রি করে লাভ করেছিল, তাদের বংশধরদের কাছেও কি তারা একই দাবি করবে?’
বাডেনকের দাবি, দুই দশক আগে টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যের পর বার্নহামের ক্ষমা চাওয়া অপ্রয়োজনীয়। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘কমনওয়েলথের উচিত সামনের দিকে তাকানো, অন্তহীনভাবে পেছনে ফিরে যাওয়া নয়।’
স্কাই নিউজকে বাডেনক বলেন, তাঁর আশঙ্কা—ক্ষমা চাওয়া হলেও প্রচারকারীরা সেটাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের পথে এক ধাপ হিসেবেই দেখবেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার উদ্বেগ হলো, এই চগম সম্মেলন আবারও মানুষের জন্য দাস ব্যবসার কথা তুলে ব্রিটেনের কাছে টাকা চাওয়ার সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের কমনওয়েলথকে একত্র করার দিকে তাকাতে হবে—সামনে এগোতে হবে, পেছনে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না দাস ব্যবসার জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাদের কোনো অর্থ দেওয়া উচিত, এবং অ্যান্ডি বার্নহামের ক্ষমা চাওয়ারও দরকার নেই, কারণ এটি টাকা চাওয়ার দরজা খুলে দেওয়ার একটি কৌশল।’
অন্যদিকে বিবিসির ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর জন হিলি বলেন, যেসব ঘটনায় ব্রিটিশ জনগণের কোনো ভূমিকা ছিল না, শত শত বছর আগের সেসব ঘটনার জন্য তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা অন্যায় হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেখুন, ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। বিশেষ করে কমনওয়েলথ নেতাদের সম্মেলনের আগে তিনি মনে করেন এটাই সঠিক কাজ।’
তবে হিলি স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন না ক্ষতিপূরণই সঠিক পথ। তাঁর ভাষায়, ‘আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার মানে এই নয় যে শত শত বছর আগে ঘটে যাওয়া, যেখানে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, এমন ঘটনার কোনো অংশের আর্থিক দায় আজকের ব্রিটিশ জনগণকে নিতে হবে।’



