নাটোরের গুরুদাসপুরে শাকিলের জানাজার পর মিছিল থেকে দোকানে হামলা ও লুটপাট

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিলের জানাজা শেষে মিছিল থেকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় গুরুদাসপুর পৌর শহরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষ হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারে ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের দোকানটিতে এই হামলা হয়। হামলার সময় শহরে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।
ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার দোকানটি আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা ইউনিয়নের খাকরাদহ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রবিউল করিমের ছেলে। নিহত শাকিল ইসলাম ছিলেন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব; তিনি পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার রবিউল মিস্ত্রির ছেলে এবং তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। হামলার নেতৃত্বে কারা ছিলেন, পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শাকিল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার বিকালে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ড দেন। কেন্দ্রীয় যুবদল মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
ওই সূত্রগুলোর অভিযোগ, মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের সখ্যতা রয়েছে এবং তাঁরা দুজনে মিলে গুরুদাসপুরে একটি সশস্ত্র গ্যাং তৈরি করেছেন। শাকিল হত্যায় মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এমন সন্দেহে জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজন দোকানটি ভাঙচুর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাকিল। তাঁকে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে শাকিল মারা যান। পরদিন মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রথম জানাজা হয়। রাতে লাশটি তাঁর গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে আগত মুসল্লিদের একাংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান এবং সেখানে রাসেলের ‘রাস আরবান স্টাইল’ দোকানে হামলা চালান। হামলাকারীদের দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি বলেছেন, ১৪ অক্টোবর তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। তাঁর ভাষ্য, সে সময় সংসদ সদস্যের নির্দেশেই প্রবাসী রাসেলের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, আবার সংসদ সদস্যের নির্দেশেই রাসেলের নাম কেটে দেওয়া হয়। মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া পুলিশ অন্য কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলেও তিনি বলেছেন, এবং তাঁর ধারণা মিন্টুর সঙ্গে রাসেলও হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
জানাজায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেছেন, জানাজা শুরুর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ শাকিলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখছিলেন এবং একপর্যায়ে তিনি নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন জানাজায় উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শুরু করেন এবং সংসদ সদস্য উপস্থিত মুসল্লিদের রোষানলে পড়েন।
শাকিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেছেন, এই অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সন্তান জড়িত থাকলেও তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান মোবাইল ফোন না ধরায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




