গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে এনবিআরের অভিযান, জব্দ প্রায় ৮২৬ লিটার মদ ও ৪ হাজার ৬৩১ ক্যান বিয়ার

রাজধানীর গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত নাম কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেড। এর অবস্থান গুলশানের ৪৫ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে, ভবনের নিচতলা, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়।
এর আগে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান শুরু হয় এবং চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে উচ্চ শুল্কের এসব পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে অভিযানটি চালায়।
এনবিআরের কাছে গোপন তথ্য আসে যে প্রতিষ্ঠানটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অ্যালকোহল সংগ্রহ করে বিক্রি করছে; এর ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। অভিযানের উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে আনা অ্যালকোহলের মজুত শনাক্ত করা, স্থানীয় বিক্রিতে ভ্যাট ফাঁকি ঠেকানো, বিক্রির অর্থ আয়কর নথিতে ঠিকমতো দেখানো হয়েছে কি না যাচাই করা এবং এসব লেনদেনে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা।
এনবিআরের নির্দেশনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অংশ নেয় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), সিআইআইডি, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পুরো সময় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) সহায়তা করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২, ভ্যাট বিধিমালা ২০১৬ এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে অভিযানটি চালানো হয়।
জব্দ করা পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ এনবিআর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়নি। তবে অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৮২৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ এবং ৪ হাজার ৬৩১টি ক্যানে প্রায় ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা রেস্টুরেন্টের রেজিস্টার, এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যার এবং গুদামে থাকা পণ্যের তথ্য মিলিয়ে দেখেন; কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলোর বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করা হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, জব্দ পণ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। অভিযানের বিষয়ে কিংফিশার রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
রাজধানীর বার ও রেস্টুরেন্টে এনবিআরের এটি এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় অভিযান। গত ৩ অক্টোবর গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁওয়ের চারটি বার ও প্রতিষ্ঠানে একযোগে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ বোতল এবং আরও প্রায় ৬৩৭ লিটার অনুমোদনহীন মদ জব্দ করা হয়েছিল।
কিংফিশারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লাইসেন্সের নিয়ম ভেঙে রাত সাড়ে ১০টার পরও বার চালানোয় গুলশান থানার পুলিশ প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।



