জর্ডানে গির্জায় হামলায় জড়িত সন্দেহে তিন সশস্ত্র ব্যক্তি আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটে একটি গির্জায় হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন ধরে খোঁজার পর সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা কারাকের আল-জাদিদা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করে।
ডিরেক্টরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালান। জবাবে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান এবং আহত অবস্থায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেন।
জর্ডান সরকারের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সংঘর্ষে হামলাকারীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে।
জর্ডানের পেত্রা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য এই অভিযানে হতাহত হননি। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পাওয়া গেছে।
পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট বলেছে, ‘আমাদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের কোনো জায়গা নেই।’ বিবৃতিতে সন্দেহভাজনদের কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ মোমানি সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই যৌথ অভিযানকে সফল বলে অভিহিত করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতির পর সংঘর্ষে আহত তিন সন্দেহভাজনকেই আটক করা হয়েছে।
গত শুক্রবার কারাকের হামুদ গ্রামে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শেষকৃত্যানুষ্ঠানে তিন বন্দুকধারী গুলি চালান। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই হামলায় আটজন নিহত ও ৪০ জন আহত হন বলে জর্ডানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কারাক শহরের প্রিন্স আলি সামরিক হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কারাকে জর্ডানের খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য বসবাস করেন। দেশটির মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ, যার মধ্যে খ্রিস্টান প্রায় ৩ লাখ।
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, হামলার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় দেশের নিরাপত্তা পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া বলেছেন, কোন পরিস্থিতিতে তরুণেরা সহিংসতার দিকে ঝুঁকছেন, কর্তৃপক্ষ তা পর্যালোচনা করছে। হামলায় অংশ নেওয়া যে কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

