ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৪৯ জন
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ২৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিদিনের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যেই এই মৃত্যু ও ভর্তির সংখ্যা উঠে এসেছে।
সর্বশেষ সাতজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ জনে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক মানুষ এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন।
ভর্তির হিসাবেও চিত্রটি বড়। গত ২৪ ঘণ্টার ২ হাজার ২৪৯ জন নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—এক হাজার ৩৩ জন। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই বিভাগই এবারও ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে আছে।
ঢাকার বাইরের চিত্রও উদ্বেগজনক। খুলনা বিভাগে ২৯৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গত এক দিনে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ দেশের সব বিভাগেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে আছে, কোথাও কম, কোথাও বেশি।
এক দিনে দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তির অর্থ হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকা। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় পর্যবেক্ষণ, তরল ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরীক্ষার প্রয়োজন হয় বলে এই চাপ চিকিৎসাসেবার প্রতিটি ধাপে অনুভূত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিদিনের মতোই ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা জানানো হয়েছে। তবে কোন বয়সের মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কিংবা মৃতদের বিস্তারিত পরিচয় এই বিজ্ঞপ্তির সংগৃহীত অংশে পাওয়া যায়নি।
ডেঙ্গু এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে বলে বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই প্রতিরোধের মূল উপায় হিসেবে বারবার বলা হয়।
বছরে এক লাখ ২৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত। মৃতের সংখ্যা ৩৮৪-তে পৌঁছানোয় প্রতিটি দিনের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণ কমে আসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে হাসপাতালের চাপ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কোন দিকে যাবে। আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বিজ্ঞপ্তিই পরিস্থিতি বোঝার প্রধান ভিত্তি হয়ে থাকছে।




