‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে ঢাকা, একিউআই স্কোর ১৭১
বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজও বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ পাঁচে রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রোববার রাজধানীর বাতাসের মান চিহ্নিত হয়েছে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক — একিউআই স্কোর — ছিল ১৭১। এই স্কোর নিয়েই বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।
একই সময়ে তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং শহর, যার স্কোর ২১০। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের মুম্বাই, স্কোর ১৯১। তৃতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর, স্কোর ১৮০, আর চতুর্থ স্থানে ছিল ভারতের কলকাতা, স্কোর ১৭৮।
দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর স্কোর ছিল ১৪৪ থেকে ২১০-এর মধ্যে। অর্থাৎ ঢাকার অবস্থান শুধু আঞ্চলিক তুলনাতেই নয়, বৈশ্বিক তুলনাতেও উদ্বেগজনক জায়গায় রয়েছে।
বায়ুমানের এই সূচক কীভাবে পড়তে হয়, তা জানাটা জরুরি। আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাস ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে বলা হয় ‘মাঝারি’।
স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি না থাকলেও শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।
ঢাকার আজকের স্কোর ১৭১ সেই সীমা পেরিয়ে গেছে। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সাধারণভাবে সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয় — অর্থাৎ এই বাতাসে শ্বাস নেওয়া শুধু সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য নয়, সবার জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
এর ওপরের ধাপগুলো আরও ভয়াবহ। একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এমন অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন। অন্যদেরও বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার কথা বলা হয়, যাতে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমানো যায়।
ঢাকার বাতাসের এই চিত্র নতুন নয় — দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানীর নাম বারবার ওপরের দিকে ওঠে। প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে নির্মাণকাজের ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া আর নগরজীবনের নানা উৎস থেকে আসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হচ্ছে।
আজকের দিনে অন্তত ব্যক্তিগত সতর্কতাই নগরবাসীর হাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বাইরের পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখার মধ্য দিয়েই এই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।






