রুক্ষ চুলে ফিরতে পারে কোমলতা ও উজ্জ্বলতা, নিয়মিত যত্নে তিনটি সহজ কৌশল
দূষণ, রোদ আর ধুলাবালিতে অনেকের চুলই ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক কোমলতা ও উজ্জ্বলতা। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর সঠিক পরিচর্যার অভাবেও একই সমস্যা বাড়ে। নানা ধরনের কেশসজ্জা, হেয়ার স্প্রে আর স্টাইলিংয়ের সরঞ্জাম ব্যবহারে চুলের আর্দ্রতা কমে গেলে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন।
রুক্ষ চুলে জট পড়া যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও। এমন অবস্থায় চুলের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় কোনো জটিল চিকিৎসার আগে নিয়মিত যত্নের দিকেই নজর দিতে বলা হচ্ছে। সহজ কয়েকটি অভ্যাস ধারাবাহিকভাবে মেনে চললে শুষ্কতা সামলানো অনেকটাই সহজ হতে পারে।
প্রথম কৌশল হিসেবে তেলের যত্নের কথা বলা হয়েছে। চুলের শুষ্কতা কমাতে নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের দৈর্ঘ্য ও ডগায় অল্প তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুলের ধরন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করলে জট কমাতে ও চুল তুলনামূলক নরম রাখতে সাহায্য মিলতে পারে।
তবে মাথার ত্বকে তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের ত্বকের ধরন ও সহনশীলতার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি, কারণ সবার ত্বকে সব তেল একভাবে মানায় না। অস্বস্তি বা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সেই অভ্যাস চালিয়ে না যাওয়াই ভালো।
দ্বিতীয় কৌশল ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক। রুক্ষ ভাব কমাতে কলা ও টক দই দিয়ে বাড়িতেই মাস্ক তৈরি করা যায়। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে সামান্য টক দই মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি চুলের দৈর্ঘ্যে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই এই যত্ন সম্পন্ন হয়।
মাস্ক তৈরির সময় কলার মিশ্রণ যেন মসৃণ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। মিশ্রণ মসৃণ হলে চুলে তা আটকে থাকার ঝামেলা কমে এবং ধোয়ার কাজটাও সহজ হয়। সংবেদনশীল ত্বক হলে পুরো চুলে লাগানোর আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় কৌশলটি খাবার ও জীবনযাপন ঘিরে। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যা করলেই হবে না, খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। ডিম, মাছ, ডাল, দুধ ও বাদামসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
এর সঙ্গে চুলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ কমানোর পরামর্শও রয়েছে। ঘন ঘন স্ট্রেটনিং আর কড়া রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের ব্যবহার কমালে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। স্টাইলিংয়ের সরঞ্জাম ব্যবহারের অভ্যাস যাদের নিয়মিত, তাদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা আরও বেশি প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে রুক্ষতা ও জটের সমস্যা সামলানো সহজ হতে পারে। তবে সব সমস্যার সমাধান ঘরোয়া যত্নে হয় না — সেটাও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চুলের অবস্থা খারাপ থাকলে ঘরে বসে অপেক্ষা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এসব লক্ষণ কখনো কখনো ত্বক বা শরীরের অন্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
সব মিলিয়ে বার্তাটি সহজ — নিয়মিত তেলের যত্ন, মাঝে মাঝে ঘরোয়া মাস্ক আর পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস, এই তিনের সমন্বয়েই রুক্ষ চুলে ধীরে ধীরে ফিরে আসতে পারে হারানো কোমলতা ও উজ্জ্বলতা।






