ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে, মারা গেলেন ৭ জন
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। এক দিনে সারা দেশে রেকর্ড ২ হাজার ২৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে এই রোগে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে ভর্তির এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই জানা গেছে।
এক দিনে দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভর্তির সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও থামছে না। এক দিনে ৭ জন মারা যাওয়ার খবর জানা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে মৃত্যু নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।
এডিস মশাবাহিত এই রোগটি এখন আর কেবল একটি মৌসুমি অসুস্থতার নাম নয়; বছর বছর এর ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। এবার এক দিনের ভর্তিতেই রেকর্ড হওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
রেকর্ডসংখ্যক রোগী এক সঙ্গে হাসপাতালে ভিড় করলে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক উদ্যোগের খবরও এসেছে। গলাচিপায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে ‘শুভসংঘ’-এর উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল লড়াইটা যে সচেতনতার ময়দানেই, তা বারবার উঠে এসেছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসব বিষয়েই সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রেকর্ড ভর্তির এই দিনে রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে বলেই চিত্রটি বলছে। প্রতিদিনের ভর্তির সংখ্যা এই হারে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে জ্বরে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে লক্ষণ খারাপের দিকে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ২৪৯ জন ভর্তি ও ৭ জনের মৃত্যু—এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ডেঙ্গু এবার কতটা বিস্তৃত আকার নিয়েছে। এখন সবার নজর থাকবে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের গ্রাফ কোন দিকে যায়, তার দিকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে হাসপাতালে ভর্তির এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াও।




