ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত চলাচল পুনরায় চালুতে আপত্তি নেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মানুষের মুক্ত চলাচল আবার চালু করার বিষয়ে খোলামেলা অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী মাসে দুই পক্ষের নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগে তাঁর এই মন্তব্য ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্রাসেলস থেকে জানা গেছে, মুক্ত চলাচল ফিরিয়ে আনা আলোচনার ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোনো 'লাল রেখা' নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বার্নহ্যাম। তাঁর মতে, ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর থেকে অভিবাসনের ধরন বদলে গেছে। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত অবস্থানে তিনি 'ঝাঁপিয়ে পড়বেন' না।
সানডে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, মুক্ত চলাচলের সঙ্গে খুব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জড়িত ছিল এবং সংসদে আগের মেয়াদে তিনি সেগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে ধরনের অভিবাসন হয়তো এখনকার পরিস্থিতির তুলনায় ততটা কঠিন ছিল না।
তিনি বলেন, যেসব মানুষ আসতেন এবং আবার ফিরে যেতেন—সেই ধরনের আসা-যাওয়ার অভিবাসন ছিল আলাদা বিষয়। তাঁর ভাষায়, অভিবাসনের ভারসাম্য বদলে গেছে, আর এসব নিয়ে এখন সৎভাবে আলোচনা করা দরকার।
গত সেপ্টেম্বরে লেবার পার্টির সম্মেলনেও বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ২৭ দেশের এই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য তিনি নানা বিকল্প বিবেচনা করছেন। তবে সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি কোন বিকল্পগুলো উপস্থাপন করবেন, তা বিস্তারিত জানাননি।
লেবার পার্টির ভেতরের বিভিন্ন নেতা অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন পথের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। কেউ ইইউর একক বাজারে যোগ দেওয়ার কথা বলছেন, কেউ শুল্ক ইউনিয়নের কথা, আবার কেউ সরাসরি জোটে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার পক্ষে। একক বাজারে যোগ দিলে যুক্তরাজ্যকে মানুষের মুক্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া ইইউর নিয়ম মানতে হবে।
মুক্ত চলাচল নিয়ে বার্নহ্যামের এই অবস্থান লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে বড় ধরনের সরে আসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই ইশতেহারে একক বাজারে ফেরা, শুল্ক ইউনিয়নে যোগ দেওয়া কিংবা মুক্ত চলাচল পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছিল।
২০ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে ইইউ ও যুক্তরাজ্য বাণিজ্য থেকে জলবায়ু বিধিমালা পর্যন্ত নানা বিষয়ে একগুচ্ছ চুক্তি চূড়ান্ত করার আশা করছে। তার ঠিক এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এল।
সাক্ষাৎকারে নিজের লাল রেখাগুলোও স্পষ্ট করেছেন বার্নহ্যাম। তিনি জানিয়েছেন, ইউরো মুদ্রা কিংবা শেঙেন ব্যবস্থায় যোগ দেওয়ার মতো কোনো প্রস্তাব তিনি কখনো সুপারিশ করবেন বলে মনে করেন না।
ব্রেক্সিটের প্রায় এক দশক পর যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক আবার জোরালো হচ্ছে। মুক্ত চলাচলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নমনীয় ইঙ্গিত সেই বিতর্ককে আরও উসকে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ২০ নভেম্বরের সম্মেলনে দুই পক্ষ কতটা এগিয়ে যেতে পারে এবং বার্নহ্যাম তাঁর বিবেচনাধীন বিকল্পগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কবে সামনে আনেন।






