যুক্তরাজ্যে ঝড় বোয়েলোর তাণ্ডব: ঘণ্টায় ৮২ মাইল বেগে হাওয়া, শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বন্যা সতর্কতা
যুক্তরাজ্যে ঝড় বোয়েলোর আঘাতে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডে রাতভর প্রবল হাওয়া বয়ে গেছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় নামকরণ করা ঝড়; এর আগে শুক্রবার ঝড় অস্টেন যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে প্রবল হাওয়া নিয়ে এসেছিল। আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, শনিবার রাত ৯টা থেকে কার্যকর হওয়া অ্যাম্বার সতর্কতা এলাকায় হাওয়ার বেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ মাইল।
উন্মুক্ত উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৮০ মাইলের বেশি পৌঁছেছে। ইনার হেব্রিডিজের টাইরি দ্বীপে রোববার ভোর ৪টার দিকে ঘণ্টায় ৮২ মাইল বেগের হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
মেট অফিস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে বাগানের ঢিলেঢালা জিনিসপত্র শক্ত করে বাঁধতে এবং ঘরের ভেতরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ ও আছড়ে পড়া ঢেউ থেকে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মেট অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ জেসন কেলি বলেছেন, এই সপ্তাহান্তে ঝড় বোয়েলো পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে অনুভূত হবে, তবে সবচেয়ে শক্তিশালী হাওয়া ও বিঘ্নের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা উত্তরে। মূল ভূখণ্ড স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ ও ইংল্যান্ডের সুদূর উত্তরে অ্যাম্বার সতর্কতা জারি রয়েছে, যেখানে ব্যাপকভাবে ঘণ্টায় ৬০–৭০ মাইল এবং উন্মুক্ত উপকূলে ৮০ মাইল পর্যন্ত হাওয়া আশা করা হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য অংশেও শক্তিশালী হাওয়ার প্রভাব পড়বে; কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০–৬০ মাইল বেগের ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর সঙ্গে উত্তরে ভারী বৃষ্টি আরেকটি বিপদ হিসেবে যোগ হবে, যা আরও প্রভাবের সম্ভাবনা বাড়াবে। বিশেষ করে ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন কেলি।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে এই সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। লিভারপুলের আলোকিত শিল্পকর্মের অনুষ্ঠান ‘রিভার অব লাইট’ নিরাপত্তার স্বার্থে বাতিল করা হয়েছে। স্বাধীন স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে লন্ডনের বার্ষিক ‘দিওয়ালি অন দ্য স্কয়ার’ উদ্যাপনও রোববার বাতিল করা হয়েছে।
প্রবল হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রোববার এডিনবার্গ দুর্গ বন্ধ রয়েছে। উত্তর ইয়র্কশায়ারের ফাউন্টেইনস অ্যাবি এস্টেটও দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে; এর আগের সন্ধ্যায় সেখানকার ‘ফাউন্টেইনস বাই ফ্লাডলাইট’ অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছিল।
রেল নেটওয়ার্কেও শনিবার রাতে বিঘ্ন ঘটেছে এবং রোববার পর্যন্ত বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হয়েছে। ল্যাঙ্কাশায়ারে ভারী বৃষ্টিতে বন্যার কারণে প্রেস্টন থেকে ব্ল্যাকপুল নর্থ পর্যন্ত রেললাইন বন্ধ হয়ে গেছে, আর স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিসের কাছে লাইনের ওপর গাছ পড়েছে।
নেটওয়ার্ক রেল একটি ট্রেনের নিচে ট্রাম্পোলিন ও লাইনের পাশে একটি শেডের ছবি শেয়ার করেছে। রেললাইনের পাশে বসবাসকারীদের বাগানের জিনিসপত্র শক্ত করে বাঁধার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।
শক্তিশালী হাওয়া বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ডাবলিন, হিথরো, ম্যানচেস্টার, এডিনবার্গ ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে।
পরিবেশ সংস্থা রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডজুড়ে বন্যা সম্ভাব্য এলাকায় ৬৬টি সতর্কসংকেত এবং বন্যা প্রত্যাশিত বলে ১০টি সতর্কবার্তা জারি করেছিল। কামব্রিয়া পুলিশ জানিয়েছে, রাতে স্থানীয় বন্যা ও সড়কে পড়ে থাকা গাছ নিয়ে তারা বেশ কয়েকটি ফোন পেয়েছে এবং জরুরি সেবা প্রতিবন্ধকতা সরানোর কাজ করার সময় গাড়িচালকদের সতর্কভাবে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অ্যাম্বার সতর্কতার বাইরেও আরও দক্ষিণের ইংল্যান্ডের কিছু অংশ, উত্তর ওয়েলস ও পুরো উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে বিস্তৃত হলুদ হাওয়া সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার ঝড় অস্টেনের আঘাতের পর দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে শত শত বাড়ি এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে; ওই ঝড়ে আইলস অব সিলির সেন্ট মেরিস বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৭৬ মাইল, দক্ষিণ ওয়েলসের অ্যাবারপর্থে ৭৪ মাইল এবং কর্নওয়ালের কালড্রোজে ৭১ মাইল বেগের হাওয়া রেকর্ড হয়েছিল।






