…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
শিক্ষা

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির ছড়াছড়ি: নয় মাসে ৩১৯ ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক, সবার ঠাঁই কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবেদন করেছেন একজন, কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার হলে বসেছেন আরেকজন — সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এমন প্রতারণা এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার সময় ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়েছেন ৩১৯ জন। আটকের পর তাঁদের প্রত্যেককে সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ঘটনায় মোট ১১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন। অর্থাৎ ধরা পড়া প্রত্যেক ভুয়া পরীক্ষার্থীকেই জেল খাটতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে বিচারক নিয়োগের পরীক্ষায়। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন ২৪৬ জন, আর এই একটি পরীক্ষা ঘিরেই মামলা হয়েছে ১০৫টি। সংখ্যার দিক থেকে মোট আটকের তিন-চতুর্থাংশের বেশি এসেছে এই একটি নিয়োগ পরীক্ষা থেকেই, যা বিচারক নিয়োগের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

এর বাইরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় আটক হয়েছেন ২৮ জন এবং কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় আটক করা হয়েছে ৩০ জনকে; কারারক্ষী পরীক্ষার ঘটনায় মামলা হয়েছে তিনটি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় আটজন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় তিনজন, রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় দুজন এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের নিয়োগ পরীক্ষায় দুজন ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন প্রকৃত প্রার্থীর হয়ে অন্য কারও পরীক্ষা দেওয়ার এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারি সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির ঘটনা বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক। এর জন্য শুধু সংক্ষিপ্ত বিচার করলেই হবে না। প্রতারণার দায়ে জড়িত আবেদনকারী ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই নিয়মিত মামলা এবং তাঁদের আজীবন পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করা উচিত।’

একই আইনজীবী পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিকায়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, বায়োমেট্রিকসহ পরীক্ষা পদ্ধতি উন্নত করা দরকার, যাতে একজনের পরীক্ষায় অন্যজন অংশ নেওয়ার সুযোগই না থাকে। পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষার জন্য নতুন নীতিমালা করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের গেস্ট ফ্যাকাল্টি ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, একজনের হয়ে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে; এর জন্য আবেদনকারী ও প্রক্সি দিতে আসা উভয়কে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের অন্তত পাঁচ বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংক্ষিপ্ত বিচারে ১৫ দিন থেকে এক বছরের সাজা প্রতারণা ঠেকাতে যথেষ্ট প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখছে না। প্রক্সি দিতে আসা ব্যক্তি ধরা পড়লেও যার হয়ে তিনি পরীক্ষা দিলেন, সেই মূল আবেদনকারী অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান — এই ফাঁক বন্ধ না হলে প্রতারণার চক্র ভাঙা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ ও সীমিত পদের তীব্র প্রতিযোগিতাই এই প্রতারণার পেছনের বড় কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আকর্ষণ যত বাড়ছে, অসাধু পথে সেই চাকরি পাওয়ার চেষ্টাও তত বাড়ছে — নয় মাসে ৩১৯ জন আটকের পরিসংখ্যান সেই চিত্রই স্পষ্ট করে।

এখন দেখার বিষয়, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আবেদনকারী ও প্রক্সি — উভয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, দীর্ঘমেয়াদি বা আজীবন নিষেধাজ্ঞা এবং বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলো কত দ্রুত কার্যকর করে। তা না হলে আগামী পরীক্ষাগুলোতেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

টঙ্গীতে সাত বছরের মাদ্রাসাছাত্রী নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশুটি

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের আলোচিত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিশুটি আদালতে জবানবন…

শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত দুই শাস্তির দাবি হেফাজতে ইসলামের

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক পদস্খলনের দায়ে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত — উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে হেফাজ…

শিক্ষা

মাদ্রাসায় একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে উদ্বেগ ধর্মমন্ত্রীর, কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা; তদারকি নিয়ে বড় প্রশ্ন

দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় একের পর এক শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার এবং কোনো কোনো ঘটনায় শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে আসায় গভীর …

শিক্ষা

টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা, শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিভাবকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এবার ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্…