টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা, শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিভাবকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এবার ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। পাল্টাপাল্টি মামলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তুমুল বিতর্ক চলছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, আর অভিভাবককে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি সড়কে অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করে সহকারী শিক্ষক মুসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। ওই সময় তিনি বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গত শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীর বাবাসহ ১৫ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মাদরাসায় ভাঙচুর, হামলা ও ১৭ লাখ টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদরাসায় ভাঙচুর ও হট্টগোলের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার পর ওই অভিভাবককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। সেখানে তিনি মাদরাসার একটি টেবিলের ওপরে থাকা গ্লাস ভাঙা ও একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের কথা স্বীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি সেখানে কোনো মব সৃষ্টি করতে যাইনি। আমি বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কোনো বিচার পাইনি। আমি যা ভেঙেছি তার জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে চেয়েছি। আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় জানলাম আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আমার অপরাধ থাকলে আমি জেল খাটব। তবে আমি উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফ নিজের ফেসবুক লাইভে এসে শিক্ষার্থীর বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন করে আরও বিতর্ক তৈরি করেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, অভিভাবককে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকমের ভিডিও ও মন্তব্য চলছে, পুলিশ সবকিছুই মনিটরিং করছে। এ ঘটনায় উপযুক্ত তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটির শুরু হয়েছিল মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে, যার ভিত্তিতে অভিভাবকের দায়ের করা মামলায় শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। এখন সেই অভিভাবক নিজেই অপর একটি মামলার আসামি, যাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
দুটি মামলার তদন্ত কীভাবে এগোয় এবং ছাত্রী নিপীড়নের মূল অভিযোগের বিচার কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের অভিযোগই তদন্তের আওতায় রয়েছে।






