কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে, প্রথম ধাপে ১৮ হাজার ৪৪৪ আবেদন
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি এবার দেশজুড়ে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, দেশজুড়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিবছর পাঁচ হাজার তরুণকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যাবে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি সফল ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
প্রথম ধাপে আট জেলার ৬৪ উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের এই সংখ্যা তরুণদের মধ্যে কর্মসূচিটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে নেত্রকোনা জেলায় — ৫ হাজার ৩৫১টি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রংপুরে জমা পড়েছে ২ হাজার ৭৪৫টি আবেদন।
এ ছাড়া নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরেছিল। সেখানে ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান কর্মসূচির লক্ষ্য, অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো জানান।
এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির নীতিমালা জারি করা হয়। তারপর প্রথম ধাপে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত আট জেলার সব উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়।
এবার দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের বাকি ৫৬ জেলায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে প্রথম ধাপের বাইরে থাকা জেলাগুলোর আগ্রহী তরুণেরাও সুযোগ পাবেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিয়ে তরুণেরা তাঁদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারবেন। সেই প্রস্তাব যাচাই করেই নির্বাচন করা হবে উদ্যোক্তাদের।
কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঋণের সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে গ্রাহক পর্যায়ে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ছাড়া সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা চিহ্নিত করা এবং তাঁদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা।
এখন প্রথম ধাপের আবেদনগুলো যাচাই করে ৬৪০ জনকে নির্বাচন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৫৬ জেলায় আবেদন গ্রহণই কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ। এর মধ্য দিয়েই ‘উদ্যোগ’ সত্যিকার অর্থে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।





