লাস ভেগাসের স্ট্রিপে বখশিশ নিয়ে জবরদস্তি ঠেকাতে বিলবোর্ডে সতর্কবার্তা: ‘বখশিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়’
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস স্ট্রিপে সাজপোশাক পরা রাস্তার শিল্পীদের আগ্রাসী বখশিশ-দাবি ঠেকাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, রাস্তার পরিবেশনা দেখা বা চরিত্র সেজে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বখশিশ দেওয়া কখনোই বাধ্যতামূলক নয়।
শুক্রবার ১৬ অক্টোবর থেকে স্ট্রিপজুড়ে বিলবোর্ডে ডিজিটাল বার্তা দেখা যেতে শুরু করেছে। সেসব বোর্ডে সরাসরি লেখা রয়েছে, পরিবেশনা দেখা বা ছবি তোলার সময় বখশিশ দেওয়া আবশ্যক নয়।
ক্লার্ক কাউন্টির কর্মকর্তারা বলেছেন, এই প্রচারের উদ্দেশ্য স্বেচ্ছায় বখশিশ দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা নয়। উদ্দেশ্য বিশেষভাবে সেই শিল্পীদের লক্ষ্য করা, যারা দর্শনার্থীদের টাকার জন্য চাপ দেন কিংবা ভুল ধারণা দেন যে বখশিশ দিতেই হবে।
ক্লার্ক কাউন্টি কমিশনার মাইকেল নাফট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এ ধরনের আচরণ শুধু ক্লার্ক কাউন্টির অর্থনৈতিক প্রাণশক্তির ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না; লাস ভেগাস স্ট্রিপের ওপর পুরো অঙ্গরাজ্যের কর-ভিত্তিও নির্ভরশীল।
নতুন সতর্কবার্তাগুলো এসেছে স্ট্রিপে সাজপোশাক পরা শোগার্লদের সঙ্গে বখশিশ নিয়ে বিরোধ সহিংস রূপ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর। সেই ঘটনায় দুই পর্যটক আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে আসা দুই দর্শনার্থী প্ল্যানেট হলিউডের বাইরে শোগার্ল সাজা তিন নারীর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য থেমেছিলেন এবং ২০ ডলার বখশিশ দিয়েছিলেন বলে আগে জানানো হয়েছিল।
গ্রেপ্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা হেঁটে চলে যেতে শুরু করলে শিল্পী জেনিফার ওর্তিজ তাদের পিছু নেন এবং ছবির জন্য ৬০ থেকে ১৮০ ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিরোধটি পরে মারামারিতে রূপ নেয় এবং দুই পর্যটকই আহত হন। পুলিশ বলেছে, এক দর্শনার্থীকে ২২ বারের বেশি আঘাত করা হয় এবং ওর্তিজ উঁচু হিলের বুট দিয়ে আঘাত করায় তার কপালে প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা কাটা দাগ পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওর্তিজ ও আরেক শিল্পী ম্যাগডেলেনা রোমেরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওর্তিজের বিরুদ্ধে মারধর এবং ১ হাজার ২০০ ডলারের কম অর্থ মিথ্যা ছলে আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে, আর রোমেরোর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে মারধরের অভিযোগ।
নতুন উদ্যোগটি ভ্রমণকারী ও লাস ভেগাসের বাসিন্দাদের মধ্যে অনলাইনে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, পরিস্থিতি কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়ে উঠছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগের মারামারির পর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তিনি খুশি।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, আগ্রাসী বখশিশ-দাবি বছরের পর বছর ধরেই সমস্যা; সাজপোশাক পরা শিল্পীদের পর্যটকদের টাকার জন্য চাপ দিতে তিনি দেখেছেন। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানোর সেরা উপায় হলো এসব শিল্পীর সঙ্গে না জড়ানো।
সব মিলিয়ে ক্লার্ক কাউন্টির বার্তা স্পষ্ট: স্ট্রিপে ছবি বা পরিবেশনা উপভোগ করা যাবে, কেউ চাইলে বখশিশ দিতেও পারেন, কিন্তু কোনো শিল্পী তা বাধ্যতামূলক বলে দাবি করতে বা চাপ দিয়ে আদায় করতে পারবেন না।





