ফ্লাভিও জিতলে ট্রাম্পের কার্টেলবিরোধী জোটে যোগ দিতে পারে ব্রাজিল, জানালেন এদুয়ার্দো বোলসোনারো
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটে ফ্লাভিও বোলসোনারো জিতলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন মাদক কার্টেলবিরোধী উদ্যোগে যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই, ব্রাজিলীয় রাজনীতিক এদুয়ার্দো বোলসোনারো। ২৫ অক্টোবরের রানঅফকে সামনে রেখে দেওয়া এই বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটে ব্রাজিলের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ নামের এই উদ্যোগটি পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় এবং কার্টেলের অর্থায়ন ব্যাহত করার যৌথ প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই জোটের প্রেক্ষাপটে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির একটি সিদ্ধান্ত। ওই সময় আটটি বড় অপরাধী সংগঠনকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ এবং ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকায় রয়েছে ট্রেন দে আরাগুয়া, এমএস-১৩, সিনালোয়া কার্টেল, জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল, নর্থইস্ট কার্টেল, গালফ কার্টেল, লা নুয়েভা ফ্যামিলিয়া মিচোয়াকানা এবং কার্টেলেস উনিদোস।
এদুয়ার্দো বোলসোনারো ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা। তারা অনেক দেশে একসঙ্গে কাজ করে, তাই আমাদেরও পাল্টা একসঙ্গে লড়াই করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে এবং শিল্ড অব দ্য আমেরিকাসের অধীনে আমাদের সামনে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’
বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার অধীনে ব্রাজিল এই উদ্যোগে যোগ দেয়নি। এদুয়ার্দোর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ভাইয়ের রক্ষণশীল লিবারেল পার্টি প্রেসিডেন্ট পদে জিতলে ব্রাজিল দেশটির শক্তিশালী অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রানঅফে ফ্লাভিও বোলসোনারোর মুখোমুখি হবেন লুলা। প্রথম দফায় বোলসোনারো লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফ্লাভিও বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলটির অন্যান্য রক্ষণশীল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইবেন।
ব্রাজিল যোগ দিলে দক্ষিণ আমেরিকায় জোটটির উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হবে। অঞ্চলটিতে প্রিমেইরো কোমান্দো দা ক্যাপিটাল এবং কোমান্দো ভার্মেলহোর মতো অপরাধী গোষ্ঠী আঞ্চলিক মাদক বাণিজ্যে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন এই প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর ও পেরু। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইকুয়েডর, পানামা, প্যারাগুয়ে ও চিলিসহ আরও কয়েকটি দেশও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে।
জোটটির বৃহত্তর লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই, অপরাধী অর্থায়ন ব্যাহত করা এবং আইন প্রয়োগকারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করা। ডিইএ প্রশাসক টেরি কোল লাতিন আমেরিকায় কার্টেলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেছেন—যার মধ্যে রয়েছে কৌশলগত অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ প্রচেষ্টা এবং কার্টেলের কার্যক্রম ব্যাহত করার লক্ষ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার কার্টেলের কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ অবৈধ মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সিনেটর টম কটন কার্টেল-সংশ্লিষ্ট মাদকের অতিরিক্ত মাত্রায় কয়েক লাখ আমেরিকানের মৃত্যুর জন্যও কার্টেলগুলোকে দায়ী করেছেন।
ফলে ২৫ অক্টোবরের রানঅফের ফল শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কার্টেলবিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ বিস্তারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফ্লাভিও জিতলে ব্রাজিলের যোগদানের ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।






