টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের, সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ সামনে রেখে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কোনো ধরনের ইজতেমা, দাওয়াতি বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এক পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সভা ও সংবাদ সম্মেলন ঘিরে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন এলাকার শীর্ষ আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে আলেমরা বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কোনো ধরনের ধর্মীয় জমায়েত কিংবা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
তাবলিগ জামায়াতের মধ্যে বিরোধের জের ধরে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা দুটি আলাদা অংশে বা আলাদা সময়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এক পক্ষে থাকেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা (সাদপন্থি) এবং অন্য পক্ষে থাকেন মাওলানা জুবায়ের উল হাসানের অনুসারীরা (জুবায়েরপন্থি)।
বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থি বলতে ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারী তাবলিগ জামাতের অংশকে বোঝায়। এই বিভক্তিই গত কয়েক বছর ধরে ইজতেমা আয়োজনের কেন্দ্রে থাকা বিতর্কের মূল কারণ।
সংবাদ সম্মেলনে আলেমরা আরও বলেন, এ বিষয়ে সরকারকে কোনো ধরনের অনৈতিক চাপে ফেলার চেষ্টা করা হলে কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। এই হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের বার্তাই দিয়েছেন তাঁরা।
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন। সভাপতির পদে হেফাজত আমিরের উপস্থিতি এই সভার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।
এ ছাড়া সভায় ছিলেন মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমান, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল ও মুফতি মুবারকুল্লাহসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা। এত বিপুলসংখ্যক শীর্ষ আলেমের একসঙ্গে উপস্থিতি এই দাবিকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই তুলে ধরে।
বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতগুলোর একটি, যেখানে প্রতিবছর লাখো মুসল্লি অংশ নেন। ২০২৭ সালের ইজতেমা সামনে রেখে ময়দান ব্যবহারের প্রশ্নটি তাই আবারও সামনে এসেছে এবং এই দাবি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আলেমদের এই দাবির পর এখন সবার নজর সরকারের দিকে—ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কার্যক্রমের অনুমতির প্রশ্নে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।
টঙ্গী ময়দান থেকে ওঠা এই দাবি ও হুঁশিয়ারি বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর প্রস্তুতি পর্বে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত এবং দুই পক্ষের পরবর্তী অবস্থানই ঠিক করবে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।






