…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
জাতীয়

৯৭ শতাংশ কাজ শেষের পর বিআরটি প্রকল্প বাতিল, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে সরব গাজীপুরের সাংবাদিক ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ল। শনিবার ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম প্রকল্পটি বাতিল এবং এর অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি বা পরিকল্পনার ত্রুটি থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে; তবে প্রায় শেষ হয়ে আসা অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর যৌক্তিকতা ও প্রভাব স্বচ্ছভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরার মানুষ টানা ১৪ বছর ধরে যানজট আর ভোগান্তি সয়ে আসছেন। এখন অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে সড়ক বানাতে গেলে সেই দুর্ভোগ আরও বাড়বে — অর্থাৎ যে ভোগান্তির অবসান ঘটাতে প্রকল্প বাতিল, সেই ভোগান্তিই ফিরে আসতে পারে নতুন রূপে।

বৈঠকে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বিআরটি প্রকল্পটি অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া হয়েছিল। যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে এটি মানুষের উপকারে আসতে পারত। তার বক্তব্যে স্পষ্ট — প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় পরিকল্পনার, কিন্তু সেই ব্যর্থতার মূল্য কেন এখন আবার সাধারণ মানুষকে দিতে হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, প্রকল্প বাতিলের পর গাজীপুরের মানুষকে কী ধরনের পরিবহন সুবিধা দেওয়া হবে, সেটিই এখন আসল প্রশ্ন। তাই শুধু বাতিলের ঘোষণা দিলেই হবে না, বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে তা স্পষ্ট করতে হবে।

বৈঠকের বক্তারা আরও বলেন, প্রকল্পে দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন করে জনস্বার্থে ব্যবহারের সুযোগও ভেবে দেখা উচিত। অবকাঠামো ভেঙে নতুন মহাসড়ক বানানোর আগে অর্থনৈতিক, কারিগরি ও জনস্বার্থের দিকগুলো পর্যালোচনা করা দরকার — কারণ একবার ভেঙে ফেললে সেই অবকাঠামো আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতেও ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক একই দাবি জানিয়েছিলেন। সিদ্ধান্তের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মহাসড়ক দিয়ে গাজীপুরসহ দেশের ১৮ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন; নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলে সবার ভোগান্তি বাড়বে।

প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তটি এসেছিল গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। পরদিন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখার উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা চিঠিতে সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করা হবে। দুই লেনের দুটি ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে, আর উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি জটিলতা মিটিয়ে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিআরটি প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১২ সালে। পরিকল্পনা ছিল, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে আলাদা লেনে বিশেষ বাস চলবে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে, অর্থাৎ চার বছরে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে আরও ১০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি বাসও চালু হয়নি।

প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তিন সংস্থার মধ্যে দায়িত্বের এই ভাগাভাগিকেই বিশেষজ্ঞরা সমন্বয়হীনতার বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

টাকার অঙ্কটাও বিস্ময়কর। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। তিন দফা সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় — অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি, প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি টাকার বেশি। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

এই প্রকল্পের ব্যর্থতার প্রভাব পড়েছে অন্য প্রকল্পেও। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত আরেকটি বিআরটি পথ নির্মাণের কথা ছিল; গাজীপুর-বিমানবন্দর অংশ সময়মতো চালু না হওয়ায় সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা ও নকশার ত্রুটি এবং সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কথা জানিয়েছিল। তাদের সুপারিশ ছিল প্রকল্প বাতিল করে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহার করা। অন্যদিকে কাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হওয়ার পর বাতিল নিয়ে আপত্তি তুলেছে ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ নামের আরেকটি সংগঠনও। ফলে বিপুল সরকারি ব্যয়, দীর্ঘ জনভোগান্তি আর প্রায় শেষ হওয়া অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে — সরকার সেই বিতর্কের জবাব কীভাবে দেয়, সেদিকেই নজর সবার।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

এনআইডি ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম দিলে হোটেলমালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কক্সবাজারে হুঁশিয়ারি

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে থাকার জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার প্রমাণ মিললে সংশ্…

জাতীয়

হাইকোর্টে ৫৭ বেঞ্চ গঠন, রোববার থেকে বিচারকাজ শুরু

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৫৭টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অবকাশকালীন ছুটির পর রোববার (২৫ …

জাতীয়

টঙ্গীর ঘটনায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে রাশেদ খাঁন: শিক্ষক বা নেতা—কারও জন্যই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শোভন নয়

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে শিশুটির বাবার হাতে শিক্ষককে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র …

জাতীয়

টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের, সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ সামনে রেখে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কোনো ধরনের ইজতেমা, দাওয়াতি বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি না দেওয়া…