গাইবান্ধায় নিখোঁজের তৃতীয় দিনে ঘাঘট নদী থেকে যুবক নাজমুল হুদা নিয়নের মরদেহ উদ্ধার
গাইবান্ধায় নিখোঁজের তৃতীয় দিনে নাজমুল হুদা নিয়ন (৪০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলডোপ এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও রংপুরের ডুবুরি দল।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ রিফাত আল মামুন। তাঁর দেওয়া তথ্যেই তিন দিনের উদ্ধার অভিযানের পুরো চিত্র জানা গেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে একই এলাকায় ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন নিয়ন। সেদিন থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনে এসে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
নিহত নিয়ন গাইবান্ধা শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁর।
নিহতের পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন নিয়ন। এর মধ্যে বুধবার বড় ভায়রা মাকসুদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান তিনি। ছুটির আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিয়ন, নেহাল, সীমান্ত ও স্ত্রী যুথিসহ চারজন কাজলডোপ এলাকায় ঘাঘট নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় যুথি নদীর পাড়ে ছিলেন, আর তিনজন গোসলে নামেন। একপর্যায়ে তিনজন নদী থেকে তীরে উঠে এলেও নিয়ন আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ রিফাত আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। পরে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রংপুরের ডুবুরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
রংপুরের ডুবুরি দল সেদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থলে আসে। এরপর সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ডুবুরি দল সম্ভাব্য স্থানে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। প্রথম দিনের অভিযানে কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শুক্রবার দিনভর খোঁজ করেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই দিনের ব্যর্থ তল্লাশির পর পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বাড়তে থাকে।
অবশেষে শনিবার, তৃতীয় দিন দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার মিটার দূরে কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা অবস্থায় নিয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকায় চাকরিরত নিয়নের এই মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে ছুটি কাটাতে এসে নদীতে গোসলে নেমে তাঁর আর ফেরা হলো না।
তিন দিন ধরে চলা এই উদ্ধার অভিযান আবারও মনে করিয়ে দিল নদীতে গোসলের ঝুঁকির কথা। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অভিযানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও পরিবারের শোকের রেশ থেকে যাবে দীর্ঘদিন।






