কানাডার কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পেছনে মেইনের সিনেট নির্বাচনের লড়াই
কানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের একটি অংশ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানায়, 'আমেরিকান জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায়' তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ছাড়ের ঘোষণা প্রথম দেন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স, যিনি মেইন অঙ্গরাজ্য থেকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন ধরে রাখতে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছেন।
গ্রীষ্মে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ক্রমবর্ধমান শুল্ক-যুদ্ধে জড়ায়, যা সীমান্তের দুই পাশেই প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কর আরোপিত কানাডীয় পণ্যের তালিকা থেকে কিছু পণ্য সরিয়ে নেবে—যেমন প্লাইউড শিট, কিছু কাগজজাত পণ্য, নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও রেফ্রিজারেশন সরঞ্জাম এবং নির্দিষ্ট প্যাকিং ক্রেট ও বাক্স।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই পণ্যগুলোর জায়গায় নির্দিষ্ট ভালভ, কার্পেট, বর্জ্য পণ্যসহ অন্য কিছু পণ্য তালিকায় যুক্ত হবে।
বিবিসি এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ ও বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণার আগেই সিনেটর কলিন্স এক্সে পোস্ট করা বিবৃতিতে বলেন, তিনি 'মেইনের কৃষিশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর অতিরিক্ত শুল্ক-ছাড় নিশ্চিত করেছেন'—যার মধ্যে রয়েছে ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদকদের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য।
তার ভাষায়, 'আমাদের অনেক কৃষক ও উৎপাদক কানাডা থেকে বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্যাকেজিং উপকরণ ও অন্যান্য পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা আমেরিকান সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না বা উল্লেখযোগ্য ব্যয় ছাড়া বদলানো যায় না।'
কলিন্স বলেন, তিনি রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার, সচিব লুটনিক ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার আলোচনায় এই পণ্যগুলোর জন্য শুল্ক-ছাড় চেয়েছেন এবং কানাডার সঙ্গে বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
কলিন্স প্রায় ৩০ বছর ধরে সিনেটে রয়েছেন; ষষ্ঠ মেয়াদের জন্য লড়ছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের বিপক্ষে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ দখলের ডেমোক্র্যাটদের আশার জন্য এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন টস-আপ অবস্থায়।
মেইনের অর্থনীতি কানাডার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত; এ বছরের শুল্ক-ঘোষণার পর রাজ্যের ইতিহাসে গভীরে প্রোথিত শিল্প—লগিং, লবস্টার ও মৎস্য—বড় ধাক্কার মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
ট্রাম্প ২২ আগস্ট থেকে নির্দিষ্ট কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর কানাডা পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করে—২ হাজার কোটি ডলারের আমেরিকান পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক। পরে কানাডা আমেরিকান সীফুডের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করে, যা মেইনের মৎস্যজীবীদের জন্য স্বস্তি এনেছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাড়গুলো মূলত কানাডার কৃষি ও বনজ খাতে কেন্দ্রীভূত এবং কলিন্সসহ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সাহায্যের লক্ষ্যেই দেওয়া হয়েছে।
জার্নাল আরও জানায়, অন্যান্য কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে এই হ্রাসের ক্ষতিপূরণ করা হতে পারে।
একই দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে 'খুব কঠোর পরিশ্রম করছে'। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, কানাডা পারস্পরিক-লাভজনক চুক্তির জন্য প্রস্তুত, তবে প্রয়োজনে অপেক্ষা করতেও রাজি।
সব মিলিয়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক-যুদ্ধে এই ছাড় একটি উল্লেখযোগ্য মোড়—যার প্রভাব শুধু বাণিজ্যেই নয়, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পড়তে পারে।






