অ্যাকিলিস ছিঁড়ে স্বপ্নভঙ্গের দুই বছর পর বিশ্ব জিমন্যাস্টিকসের সেরা মুকুট স্কাই ব্লেকলির
ছিঁড়ে যাওয়া অ্যাকিলিস টেন্ডনের যন্ত্রণা আর অলিম্পিক স্বপ্নভঙ্গের হতাশা পেছনে ফেলে বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের নারী অল-অরাউন্ড খেতাব জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্কাই ব্লেকলি। শুক্রবার রটারডামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ২১ বছর বয়সী এই জিমন্যাস্ট জিতেছেন অলিম্পিকের বাইরে খেলাটির সবচেয়ে বড় একক পুরস্কার।
চারটি অ্যাপারাটাস মিলিয়ে ব্লেকলি সংগ্রহ করেন ৫৫.৭৩৩ পয়েন্ট। তাঁর পেছনে রাশিয়ার লিউদমিলা রোশচিনা ৫৫.১৯৯ পয়েন্ট নিয়ে রৌপ্য এবং চীনের কে কিনকিন ৫৫.০৩২ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।
এই জয় ব্লেকলির জন্য শুধু একটি পদক নয়, একটি দীর্ঘ প্রত্যাবর্তনের গল্প। মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি আগে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের মার্কিন ট্রায়ালের মাত্র দুই দিন আগে ফ্লোর এক্সারসাইজ অনুশীলনের সময় তাঁর ডান পায়ের অ্যাকিলিস ছিঁড়ে যায়।
সেই চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং শেষ হয়ে যায় সেই মৌসুম, যেখানে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি কিংবদন্তি সিমোন বাইলসের পেছনে রানার-আপ হয়েছিলেন। অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন সেবার ভেঙে যায় চোখের সামনে।
এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। এর আগে টোকিও অলিম্পিক ট্রায়ালের ওয়ার্ম-আপের সময় তিনি কনুইয়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। দুটি বড় অস্ত্রোপচার আর দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
রটারডামে বাছাই পর্বের পর ব্লেকলি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে কেঁদে ফেলেছি, কিন্তু এটা আমার কাছে পুরো পৃথিবীর সমান। আমি জানি আমাকে কত কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে — দুটি বড় অস্ত্রোপচার, অনেক কষ্ট, অনেক ওঠানামা।’
শুক্রবারের ফাইনালে তিনি নামেন দ্বিতীয় সেরা বাছাই হিসেবে। চাপের মুখে তিনি আনইভেন বার ও ব্যালান্স বিমে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স করেন এবং ফ্লোর এক্সারসাইজে এক পয়েন্টের বেশি লিড ধরে রেখে খেতাব নিশ্চিত করেন।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার জুনিয়র ব্লেকলি হলেন ২০২৩ সালে সিমোন বাইলসের পর প্রথম আমেরিকান বিশ্ব অল-অরাউন্ড চ্যাম্পিয়ন। তাঁর এই জয় ২০০৩ সাল থেকে প্রতিটি অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মার্কিন জিমন্যাস্টদের পডিয়ামে ওঠার ধারাও অব্যাহত রাখল।
চোটে জর্জরিত ক্যারিয়ার থেকে ফিরে এসে বিশ্বসেরা হওয়ার এই গল্প জিমন্যাস্টিকস বিশ্বে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনেকে। দুবার অলিম্পিক ট্রায়ালের দোরগোড়া থেকে ফিরে যাওয়া একজন ক্রীড়াবিদের জন্য রটারডামের এই মুকুট তাই শুধু স্কোরের জয় নয়, ধৈর্য আর মানসিক শক্তিরও জয়।
এখন সবার চোখ থাকবে ব্লেকলির পরবর্তী পথচলার দিকে — এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আগামী অলিম্পিক চক্রে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্র দলের অন্যতম প্রধান ভরসা।






