স্ত্রীর গাড়ির নম্বরপ্লেট শত শতবার অনুসন্ধান: ফ্লক ক্যামেরার অপব্যবহারে গ্রেপ্তার ইন্ডিয়ানার পুলিশ
স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট-পাঠক (এএলপিআর) ক্যামেরা শত শতবার অপব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিজের স্ত্রী ও তার এক পূর্বপরিচিত ব্যক্তির গাড়ির নম্বরপ্লেট অনুসন্ধান করেছিলেন।
জর্জটাউন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা জাস্টিন ক্রেইগের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক অসদাচরণ ও প্রতারণার দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ডব্লিউএলকেওয়াই নিউজের বরাতে জানা গেছে, তিনি তার স্ত্রীর লাইসেন্স প্লেট ৮০ বারের বেশি এবং ওই পূর্বপরিচিত ব্যক্তির প্লেট প্রায় ২৫০ বার অনুসন্ধান করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ক্রেইগের অনুসন্ধান শুরু হয় জানুয়ারিতে এবং জুলাই পর্যন্ত চলে। অর্থাৎ টানা ছয় মাস ধরে তিনি এই কাজ করে গেছেন বলে অভিযোগ।
তদন্তের সূত্রপাত হয় ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাংবাদিকের টিপ থেকে—ওই সাংবাদিক জর্জটাউনের পুলিশ প্রধানকে ফোন করে তথ্য দেওয়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে।
জর্জটাউন পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফ্লক সিস্টেমে ক্রেইগ যে অনুসন্ধানগুলো চালিয়েছিলেন, সেগুলোর সঙ্গে কোনো পুলিশি তদন্তের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলোকে এমনভাবে লেবেল করেছিলেন যাতে মনে হয় অনুসন্ধানগুলো ন্যায্য ছিল।
যানবাহন-অপরাধ, মাদক, হামলা/মারধর, চুরি ও চুরি যাওয়া গাড়ি—এমন নানা বিষয় উল্লেখ করে অনুসন্ধানগুলোকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে নথিতে বলা হয়েছে।
ফ্লকের ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি তুলে নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহনের চলাচল লগ করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ফ্লক ক্যামেরা রয়েছে, যেগুলো প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি স্ক্যান করে।
এই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লক ৪ হাজার ৮০০-এর বেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ক্যামেরা ও সফটওয়্যার দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বলে, তাদের প্রযুক্তি অপরাধ-তদন্তে সহায়তার জন্য; কিন্তু গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও তথ্য-ভাগাভাগির অভিযোগে এটি দ্বিদলীয় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকাকে অনুসরণ করতে, কেউ গর্ভপাত-সন্ধানীদের শনাক্ত করতে ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ক্যামেরাগুলোর নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)-ও নিয়মিত ব্যবহার করে; দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সংস্থাটির কঠোর অভিযান দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর ক্রেইগের আইনজীবী ম্যাথিউ লেমে একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ফ্লক একই প্রযুক্তি শহর, আবাসন সমিতি ও শপিং মলের কাছেও বিক্রি করে। তার ভাষায়, 'যখন এই প্রযুক্তির প্রকাশ্য সমালোচনা এলো, তখন দায় চাপানো হলো একেকজন পুলিশ কর্মকর্তার কাঁধে। অভিযুক্ত আচরণ কোনো আইন বা বিভাগীয় নীতি লঙ্ঘন করে না।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'জনগণ বা পুলিশ সংস্থা যদি মনে করে এটি হওয়া উচিত, তাহলে সেই আইন বা নীতি লিখতে হবে। গোপনীয়তা ও অনুশীলন নিয়ে এই প্রকাশ্য আলোচনা যথাযথ। কিন্তু সেই আলোচনা শুরুর আগেই কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা যথাযথ নয়। ক্রেইগ অভিযোগ বাতিলের আবেদন করবেন।'
আগস্টে ফ্লকের প্রধান নির্বাহী ঘোষণা দেন, পুলিশি অপব্যবহার রোধে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এমন বৈশিষ্ট্য চালু করতে বাধ্য করবেন, যা দিয়ে পৃথক কর্মকর্তাদের ট্র্যাকিং-ব্যবহার অডিট করা যায়।
সব মিলিয়ে এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নজরদারি-প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলেই মনে হচ্ছে।






